ব্লগ বা ওয়েবসাইট এর গুগল সার্চ ইঞ্জিন র‌্যাঙ্কিং বাড়ানোর জন্য ৭টি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল

আজকে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এবং ব্লগিং সম্পর্কে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আপনার সাথে কথা বলব যে বিষয়গুলি ফলো করলে আপনি আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইট গুগলের সার্চ রেজাল্ট পেজের প্রথম দিকে নিয়ে আসতে পারবেন। তাহলে চলুন আজকের আলোচনা শুরু করি।

১# কন্টেন্ট বনাম টুলস বা সফটওয়্যার

প্রথমেই যে বিষয়টা নিয়ে আমি কথা বলব সেটা হল কন্টেন্ট বনাম টুলস বা সফটওয়্যার। প্রচুর ব্লগার বা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার রয়েছে যারা তাদের ব্লগ বা ওয়েবসাইটের জন্য লেখালেখি করে এবং তারা বেশিরভাগ-ই মনোনিবেশ করে বিভিন্ন সফটওয়্যার বা টুলস এর উপরে। আমি বলছিনা সফটওয়্যার টুলস এগুলি ব্যবহার করলে কোন উপকারিতা নাই বা ব্যবহার করা উচিত নয়। কিন্তু শুধুমাত্র সফটওয়্যার বাটলস এর উপরে আপনি যখন সবচাইতে বেশি মনোনিবেশ করবেন তখন আপনি আর খুব ভালো মানের লেখা তৈরি করতে পারবেন না। ইন্টারনেট মানে হচ্ছে কনটেন্ট, ইন্টারনেটে যতকিছুই আপনি দেখছেন যেমন; ছবি, ভিডিও, লেখালেখি এর সবকিছুই কিন্তু কনটেন্ট। সুতরাং আপনি যখন আপনার ব্লগ সাইটে লেখালেখি করছেন সেগুলো কিন্তু আপনার কনটেন্ট বা প্রোডাক্ট।

এখন ভালো মানের কনটেন্ট প্রোডাক্ট যখন আপনি তৈরি করবেন বা করতে সক্ষম হবেন তখন অটোমেটিক্যালি গুগোল আপনার লেখাগুলোকে বা কনটেন্ট গুলো কে তার রেজাল্ট পেজ এর প্রথম দিকে নিয়ে আসবে। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় একটি ওয়েবসাইটকে গুগল যতগুলো বিষয়ের উপর ভিত্তি করে রেংকিং দিয়ে থাকে তার মধ্যে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ হল কনটেন্ট। কোন টুলস বা সফটওয়্যার এর উপরে না।

অনলাইনে অনেক ব্লগার বা কনটেন্ট রাইটার আছে যারা লেখালেখি করছে তাদের ব্লগ ও ওয়েবসাইটে। যাদের মধ্যে অনেকেই আছে যারা কিনা প্রায় সময় দেখা যায় বিভিন্ন সফটওয়্যার বা টুলস এর উপরে নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। ইন্টারনেটে হাজারো এরকম সফটওয়্যার টুলস রয়েছে এত সফটওয়্যার টুলস ব্যবহার করে আপনি শেষ করতে পারবেন না। কিন্তু এত হাজারো সফটওয়্যার বা টুলস আপনি যত টাকা খরচ করেই ব্যবহার করেন না কেন যদি আপনার কনটেন্ট ভালো না হয় তাহলে এই টুলস কোন কাজে আসবে না।

ব্লগিং বা কনটেন্ট রাইটিং নিয়ে একটি প্রবাদ রয়েছে আর তা হলো

কনটেন্ট ইজ দ্যা কিং

আপনি যখন কনটেন্ট রাইটার আপনি আপনার ওয়েবসাইট এ বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট আপলোড করছেন সে ক্ষেত্রে আপনার প্রথম বিবেচ্য বিষয় থাকবে কন্টেন্ট রাইটিং এর ওপরে। কিভাবে ভাল মানের কনটেন্ট তৈরি করতে পারেন তার ওপরে। আপনাকে কমপক্ষে ৮০ শতাংশ মনোযোগ দিতে হবে কনটেন্ট রাইটিংয়ের দিকে এবং বাকি 20 শতাংশ মনোযোগ দিতে পারেন বিভিন্ন টুলস বা বিভিন্ন সফটওয়্যার এর উপর ব্যবহারের উপর। কিন্তু বেশিরভাগই ব্লগার বা কনটেন্ট রাইটারাই দেখা যায় বিভিন্ন সফটওয়্যার বা টুলের উপরে নির্ভর করে বসে, কনটেন্ট এর উপরে মনোনিবেশ করে না। গুগোল আপনার ওয়েবসাইটকে কনটেন্ট এর জন্যই রেংকিং দিবে সুতরাং টুলস এর দিকে এত বেশি মনোযোগ দেয়া থেকে বিরত থাকা উচিৎ।

২# বেস্ট কনটেন্ট বা ভালো মানের

এই পৃথিবীতে কোন কিছুই পার্ফেক্ট বা বেস্ট বলতে কিছু নেই। এই মুহূর্তে আপনি যতটুকু কনটেন্ট লিখতে পারতেন সেটাই হতো আপনার জন্য বেস্ট কনটেন্ট। আপনি শুরুর দিকে হয়তোবা পাঁচ লাইন লিখতে পারতেন না কিন্তু যতটুকু পারতেন ঠিক অতটুকই আপনার জন্য বেস্ট কনটেন্ট।  প্রতিদিন অল্প অল্প প্র্যাকটিস করতে করতে আপনি একটি সময় অনেক ভাল মানের কনটেন্ট লিখতে পারবেন। আপনি যদি এখন খুব সহজেই ৪০০ বা ৫০০ ওয়ার্ড এর কনটেন্ট লিখে ফেলতে পারেন তাহলে কাল থেকে কিভাবে ৬০০ বা ৭০০ ওয়ার্ডের কনটেন্ট লেখা যায় সে বিষয়ে মনোনিবেশ করুন। এভাবে লিখতে লিখতেই একসময় দেখবেন আপনি খুব সহজেই আনলিমিটেড ওয়ার্ডের কনটেন্ট লিখে ফেলতে পারছেন।

কনটেন্ট রাইটিং শেখার গোপনীয় কোন ফর্মুলা নেই একটাই ফর্মূলা আছে আর সেটা হল অনুশীলন বা প্র্যাকটিস। আপনি যত বেশি প্র্যাকটিস করবেন আপনি তত বেশি ভালো কনটেন্ট তৈরি করতে পারবেন। এবং আপনি ধরে নিন বেস্ট কনটেন্ট বলতে এই মুহূর্তে আপনি যতোটুকু লিখতে পারেন সেটা এবং ধৈর্য ধরে প্রতিনিয়ত কিছু কিছু করে লেখালেখি করা চালিয়ে যান। ১৫ দিন ২০ দিন এই স্বল্প সময়ে আপনি খুব ভালো মানের কনটেন্ট রাইটার হয়ে উঠবেন না এটাই স্বাভাবিক। পৃথিবীতে কোন কনটেন্ট রাইটার বা বই লেখক এক মাস, দুই মাস, তিন মাসে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেনি। তাদেরকেও আপনার মতই প্রথম দিকে অল্প অল্প লেখালেখি করে শুরু করতে হয়েছে।

আমি এখন যতটুকু ভালো মানের কনটেন্ট লিখতে পারি এ পর্যায়ে আসতে আমার নিজেরও অনেক সময় লেগেছে। এখন আমি প্রায় বলতে গেলে কোন ওয়ার্ড লিমিট ছাড়াই আর্টিকেল লিখে ফেলতে পারি। কোন লিমিট নেই, যতক্ষণ ইচ্ছা ততক্ষণ আমি লিখতে পারি প্রায় যে সকল বিষয়ে আমার জ্ঞান আছে। তাই আপনার প্রতি আমার পরামর্শ থাকবে আপনি প্রথম থেকেই কিছু কিছু করে লেখালেখি শুরু করে দিন এবং এটা দিন দিন বাড়াতে থাকুন। আপনি বিভিন্ন ধরনের সফটওয়্যার, টুলস, ওয়েবসাইট, ইত্যাদি ব্যবহার করা কথা ভুলে যান। এই সফটওয়্যার টুল দেখতে অনেক শর্টকাট উপায় মনে হয়, যে কারণে অনেকেই এর উপরে ঝুকে পড়ে, কিন্তু বাস্তবিক পক্ষে ভাবে আপনার কন্টেন্টই হবে আপনার জন্য সফলতার জাদুকাঠি।

আর এই কনটেন্টে হলো আসল উপাদান আপনার ওয়েবসাইটের জন্য। যার জন্যই আপনার ওয়েবসাইটে ট্রাফিক আসবে, ভিজিটর আসবে, গুগল আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইটকে সার্চ রেংকিং এ প্রথম দিকে নিয়ে আসবে। আর এর ফলস্বরূপ আপনার গুগল এডসেন্স আর্নিং আসবে, এফিলিয়েট সেলস হবে, স্পনসর্শিপ পেতে শুরু করবেন। সুতরাং সার্চ ইঞ্জিন রেংকিংয়ে প্রথমদিকে থাকতে যদি আপনি আমার কাছে পরামর্শ চান তাহলে আমি আপনাকে পরামর্শ দিব আপনি কনটেন্টের দিকে মনোযোগ দিন। সফটওয়্যার বা কোন টুলসের দিকে যদি মনোযোগ দিতেই হয় সেক্ষেত্রে ২০ শতাংশ টুলস এর জন্য ৮০ শতাংশ কনটেন্টের জন্য।

৩# কনটেন্ট তৈরি বা প্রোডাকশন

এখন যে বিষয়টি নিয়ে কথা বলব সেটা হচ্ছে কনটেন্ট তৈরি বা প্রোডাকশন। এতক্ষণ তো কনটেন্ট রাইটিং বা কনটেন্ট ও সফটওয়্যার বা টুলস এর মধ্যে ব্যবধানটা বললাম, কোনটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু এখন আমি আপনাকে বলব কি পরিমান কনটেন্ট আপনার ওয়েবসাইটে পাবলিশ করলে আপনার ওয়েবসাইট রেংকিং এ আসবে বা আপনার ব্লগ থেকে সর্বোচ্চ লাভবান হতে পারবেন।

প্রকৃতপক্ষে কনটেন্ট তৈরি করার কোন লিমিট নেই, এমন না যে দশটা কনটেন্ট বিশটা কনটেন্ট। আপনি যতদিন ব্লগিং করবেন ততদিনই আপনাকে কনটেন্ট তৈরি করে যেতে হবে। এমন না যে আপনার ওয়েবসাইটে দশটা কনটেন্ট, বিশটা কনটেন্ট, তিশটা কনটেন্ট বা পঞ্চাশটা কনটেন্ট পাবলিশ করে দিলেই ব্যাস হয়ে গেল। ব্লগিং হচ্ছে একটা ননস্টপ জার্নি, আপনি যেই টপিক বা বিষয় নিয়ে লেখালেখি করতে চাচ্ছেন বা অলরেডি করছেন, সেই বিষয়ের উপর আনলিমিটেড কন্টেন্ট তৈরি করতে থাকুন।

আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইটে নিয়মিতভাবে আপনি যে টপিক এর উপরে লেখালেখি করেন ঠিক সেই টপিকের উপর এই কনটেন্ট পাবলিশ করে যেতে হবে। গুগল এটাকে অনেক গুরুত্ব দিয়ে থাকে, নিয়মিত কনটেন্ট পাবলিশ হতে থাকলে সেই ওয়েবসাইটকে গুগল অনেক পছন্দ করতে শুরু করে। গুগোল তখন ধরেই নেয় এই ওয়েবসাইটটি অ্যাক্টিভ। যেহেতু নিয়মিত কনটেন্ট পাবলিশ হতে থাকে তাই একটা সময় এই ওয়েবসাইটটি কে গুগল সার্চ রেংকিং এ নিয়ে আসে।

আরেকটি বিষয় আপনার কনটেন্ট কে আপনি সময়ের সাথে সাথে আপডেট করার চেষ্টা করুন। ধরুন ছয় মাস আগে আপনি একটি ব্লগ পোস্ট করেছেন ছয় মাসে অনেক কিছু পরিবর্তন হয়ে গেছে, নতুন কিছু আসছে বা পরিবর্তিত হয়ে গেছে সেই পরিবর্তন আপনি আপনার কনটেন্ট লিখে দিন বা যুক্ত করে দিন। প্রতিনিয়ত এভাবে কনটেন্ট আপডেট হতে থাকলে গুগোল ধরেই নেয় এই ওয়েবসাইটের প্রত্যেকটি কন্টাক্ট যুগ উপযোগী এবং গুগোল এটাকে খুব পছন্দ করে যার কারণে একটা সময় গুগল এটা কে রেঙ্ক দিতে শুরু করে। আমি ব্যক্তিগতভাবে এটা পরীক্ষা করে দেখেছি তাই আপনি আপনার ওয়েবসাইটেও বা ব্লগেও এই পদ্ধতিটি অনুসরণ করবেন। এছাড়া অন্যদিকে নতুন নতুন কনটেন্ট তো যুক্ত করতে থাকবেনই।

আপনি একটি সিডিউল করে প্রতি সপ্তাহে  দুইটা বা তিনটা করে কন্টাক্ট পাবলিশ করতে থাকুন, অথবা তিনটা করে পাবলিশ করতে থাকুন। এভাবে কনটেন্ট পাবলিশ করে যাবেন নিয়মিতভাবে, অন্যদিকে বেশি গ্যাপ দিলে এটা আবার রেংকিং এর উপরে ইফেক্ট পড়ে। আপনি এই সপ্তাহে ৫ টি কনটেন্ট পাবলিশ করলেন কিন্তু পরবর্তী পাঁচ সপ্তাহে আপনার আর কোন খবর নাই, আবার হয়তো বা দুইটা তিনটা কনটেন্ট পাবলিশ করলেন, এভাবে কনটেন্ট পাবলিশ করলে রেংকিং কমে যায়।

৪# ওয়েব মাস্টারদের সাথে সম্পর্ক তৈরি করা

পরবর্তী কৌশলটি হলো বিল্ডিং রিলেশনশিপ উইথ আদার ওয়েবমাস্টার। আপনি যেমন একটি ওয়েবসাইট অপারেট করছেন, আপনি একজন ওয়েব মাস্টার, ঠিক আপনার মত আপনার একই টপিকে আরো অনেকেই ব্লগিং করছে, তারাও ব্লগিং করছে তাদের সাথে আপনার একটি সম্পর্ক তৈরি করুন। তাদের ওয়েবসাইটে যান, তাদের ওয়েব সাইটের কনটেন্ট গুলো পড়ুন, কনটেন্টের উপর ভিত্তি করে গুছিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করুন। বিভিন্ন ওয়েবসাইটের কমেন্ট সেকশনে বিভিন্ন ধরনের ডিসকাশন হয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সেই দিনগুলোতে আপনি জয়েন করুন। শুধুমাত্র আপনার ওয়েবসাইটের লিংক টি যুক্ত করার জন্য অথবা ব্যাকলিংক তৈরি করার জন্যই আপনি সেখানে জয়েন করবেন না। সেখানে আপনি জয়েন করবেন আসলে একজন আসল পাঠক হিসেবে এবং অর্থবহুল মন্তব্য করতে।

এতে করে অন্যান্য ওয়েব মাস্টার বা ব্লগারদের সাথে আপনার একটি ভাল সম্পর্ক তৈরী হবে। এতে করে সে সকল ওয়েবমাস্টাররা আপনার নিজের অজান্তেই আপনাকে হাই কোয়ালিটি ব্যাকলিংক দিয়ে দিবে। আপনার সাথে তাদের একটি ভাল সম্পর্ক তৈরী হওয়ার দরুন তারা তাদের আর্টিকেলে আপনার ওয়েবসাইটের দু-একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্টিকেল লিংক করে দিবে, আর এর মাধ্যমে আপনি সহজেই ব্যাক লিঙ্ক পেয়ে যাবেন। ব্যাকলিংক তৈরি করা খুবই কঠিন কাজ, প্রায় সকল ব্লগারদের জন্য। কিন্তু সঠিক ভাবে স্মার্টলি যদি আপনি ব্লগিং করেন তাহলে হাই কোয়ালিটি ব্যাকলিংক অন্যান্য ওয়েব সাইট থেকে পেয়ে যাওয়া খুব একটা কঠিন বিষয় নয়। অনেক ক্ষেত্রে একটি ওয়েব মাস্টারের সাথে আরেকটি মাস্টারের সম্পর্ক তৈরি করে তাদের মধ্যে ব্যাকলিংক এক্সচেঞ্জ করার ব্যাপারটা লক্ষ করা যায়, আসলে এটা একটা উইন উইন সিস্টেম।

কিন্তু অনেকেই আছে যারা চিন্তা করে সবাই আমাকে ব্যাকলিংক দিবে কিন্তু আমি কাউকে ব্যাক লিংক দিব না। এভাবে চিন্তা করার কারণে সে আর কখনোই অন্যান্য ওয়েব মাস্টারদের কাছ থেকে ব্যাকলিংক পেয়েও ওঠেনা। এভাবে স্বার্থপরের মত চিন্তা করে সহজে ব্যাকলিংক বিল্ড করা যায় না।গুগলে যদি সার্চ দেয়া যায় “হাউ টু বিল্ড হাই কোয়ালিটি ব্যাকলিংক” তাহলে প্রায় লক্ষ লক্ষ ফলাফল পাওয়া যায়। এদের মধ্যে থেকে আমি অনেক গুলোই আমার ব্লগিং ক্যারিয়ারে বাস্তব ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেছি, এদের মধ্যে প্রয় ৯০ শতাংশ ভুল তথ্য দিয়ে ভরপুর। বিভিন্ন বুকমার্কিং সাইটে গিয়ে লিংক বিল্ডিং করা, বিভিন্ন ফোরামে গিয়ে লিংক যুক্ত করা, বিভিন্ন সোসাল মিডিয়ায় লিংক বিল্ডিং করা এগুলো আসলে স্প্যামিংয়ের আন্ডারে পড়ে যায়।

এইসকল সিস্টেমে যখন আপনি ব্যাকলিংক তৈরী করতে যাবেন তখন আপনার ওয়েবসাইটের রেংকিং বাড়ানোর পরিবর্তে রেংকিং হারিয়ে যাবে। আমি আসলে পার্সোনালি দেখেছি এই বিষয়গুলো কখনো ব্যাংকিং সেক্টরে কাজে আসে না শুধু সময়েরই অপচয়। এভাবে সময় নষ্ট না করে আপনি আপনার ব্লগের টপিক অনুযায়ী এর কাছাকাছি টপিকের ব্লগ বা ওয়েবসাইটের লিংক গুগল থেকে খুঁজে বের করুন। আপনি আপনার টপিকের বিষয় লিখে গুগলে সার্চ দিলে গুগলের প্রথম পেজ এর মধ্যেই আপনার টপিক এর অনেকগুলো ওয়েবসাইটের লিঙ্ক সহজেই পেয়ে যাবেন। সেই ওয়েবসাইটগুলো একটি ভালো করে রিভিউ করুন এবং সেই ওয়েবসাইটের মালিক ব্লগার ওয়েবমাস্টারদের সাথে ভালো সম্পর্ক তৈরী করুন। এবং সে সকল ওয়েবসাইট থেকে আপনি দুই থেকে পাঁচটা ব্যাকলিংকও যদি পান সেই ব্যাকলিংক গুলোই আপনার জন্য হাই কোয়ালিটি ব্যাকলিংক হবে। এবং ওই ব্যাকলিংক গুলোর জন্যই আপনার সাইট গুগল সার্চ রেংকিং এ প্রথম পেজে চলে আসবে।

শত শত হাজার হাজার ব্যাকলিংক এর প্রয়োজন হয় না একটি সাইটকে সার্চ রেংকিং এ ফাস্ট পেজে নিয়ে আসার জন্য। আপনার সাইটের জন্য ৫ থেকে ১০ টি কোয়ালিটি ব্যাকলিংক হলেই আপনার সাইটের বেশিরভাগ লেখাগুলোই রেংকিং এ চলে আসবে। তাই এভাবে ফোরাম ব্যাকলিংক বুকমারকিং এবং অন্যান্য উপায় যেগুলো বিভিন্ন ওয়েবসাইটে পাওয়া যায় সেগুলো আসলে কাজ করে না। বিভিন্ন ফোরামে বিভিন্ন বুকমার্কিং সাইটে আপনি যে কাজটা করছেন এভাবে আরো লক্ষ লক্ষ ওয়েবমাস্টার, ব্লগাররাও একই কাজ করছে সুতরাং এক্ষেত্রে আপনার মধ্যে এবং তাদের মধ্যে কোন পার্থক্য গড়ে উঠবে না। যার কারণেই গুগোল আপনার ওয়েবসাইটকে আলাদাভাবে প্রায়োরিটি দিচ্ছে না।

তাই বিভিন্ন ওয়েবমাস্টার ব্লগারদের সাথে সম্পর্ক তৈরী করে আপনি তাদেরকে ব্যাকলিংক দিবেন এবং তারাও আপনাকে ব্যাকলিংক দিবে। তাই এক্ষেত্রে আমি আপনাকে একটি ব্যক্তিগত কৌশল বলি আপনি যখন কোন আর্টিকেল লিখবেন সেগুলোর মধ্যে দু-একটি ব্যাকলিংক অন্যান্য ওয়েবসাইটের যুক্ত করে দিন। তারা আপনাকে ব্যাকলিংক দিক আর না দিক। এবং প্রয়োজন হলে ডুফলো ব্যাক লিঙ্ক দিন। এবং তাদের ওয়েবসাইটে গিয়ে ভালোভাবে একটি আর্টিকেল পড়ুন এবং কমেন্ট সেকশনে অর্থবহুল মন্তব্য করুন।

তখন সেই ওয়েবসাইটের ওনার কিন্তু আপনার কমেন্টটি দেখতে পাচ্ছে তখন হ্যা তখন আপনি সাথে ইউআরএল সেকশনে একটি লিংক যুক্ত করে দিতে পারেন। এবং পরবর্তীতে আপনার ওয়েবসাইটের আপনার আর্টিকেলে ঐসকল ওয়েবসাইটের যে ব্যাক লিংক দিয়েছেন ঐসকল ওয়েবসাইটের ওনাররা এটা কিন্তু এটা লক্ষ্য করছে। এবং পরবর্তীতে দেখবেন আপনাকে তাদের কাছে অনুরোধ বা জিজ্ঞেস করতে হচ্ছে না তারা অটোমেটিক আপনাকে তাদের আর্টিকেলে ব্যাক লিংক দিয়ে দিচ্ছে। কারণ আন্তর্জাতিকভাবে সবাই কলাবরেশন টাকে প্রাধান্য দেয়। তাই এটা একটা দারুন পদ্ধতি যে অন্যান্য ওয়েবসাইটের ওনার আছে তাদের সাথে ভাল সম্পর্ক তৈরী করা। এবং এই সম্পর্ক তৈরী করতেই আপনার দুই থেকে তিন মাস সময় লেগে যেতে পারে।

এই দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে হয়তোবা আপনি মাত্র ৫ থেকে ৬ টি ব্যাকলিংক পেয়ে যেতে পারেন। যে ৫ থেকে ৬ টি ব্যাকলিংক ই আপনার ওয়েবসাইটটি কে গুগলের সার্চ পেজের প্রথম পাতায় নিয়ে আসবে। আমার পরামর্শ অনুযায়ী আপনি এই বিষয়টি করতে ২০ শতাংশ সময় ব্যয় করুন। এবং আর ২০ শতাংশ সময় ব্যয় করুন ভাল কনটেন্ট রাইটিং এর জন্য। আর জেসকল সফটওয়্যার বা টুলস আছে এগুলোকে শুরুর দিকে পাশে রেখে দিন। তবে এদের মধ্যে কিওয়ার্ড রিসার্চ টুলটা আপনি চাইলে ব্যবহার করে নিতে পারেন এছাড়া অন্যান্য পোস্টগুলো ব্যবহার এর দিকে মনোনিবেশ না করায় উত্তম। সুতরাং অন্যান্য ওয়েব মাস্টারদের সাথে সম্পর্ক তৈরী করা ব্লগিং এবং অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ক্যারিয়ারের সফলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি।

৪# ফ্রী বি প্রডাক্ট পাবলিশ করা

আর হাই কোয়ালিটি ব্যাকলিংক পাওয়ার আরেকটি দারুন পদ্ধতি হচ্ছে বিনামূল্যে বিভিন্ন প্রডাক্ট আপনার সাইটে পাবলিশ করে দেয়া। আর এই পদ্ধতিটি শুধুমাত্র ব্লগিংয়ে নয় পৃথিবীতে অনেক নামিদামি কোম্পানির রয়েছে যারা বিভিন্ন মার্কেটে বিভিন্ন পাবলিক প্লেসে বিভিন্ন প্রোডাক্ট ফ্রিতে দিচ্ছে দিচ্ছে। আমি এও দেখেছি অনেক মার্কেটিংয়ের ছেলেমেয়েরা গ্রামের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে সাবান দিচ্ছে শ্যাম্পু দিচ্ছে টেস্ট করার জন্য। কেন দিচ্ছে? তার কারণ হচ্ছে আপনি এটি একবার ব্যবহার করে এর মজাটা বুঝে গেলে পরবর্তীতে যেন কিনে এটি ব্যবহার করেন।

এটা খুব সাধারণ এবং কমন একটা কৌশল। তাই আপনার ওয়েবসাইট কিন্তু আপনার নিজের একটি কোম্পানি হয়তো আপনি একা অপারেট করছেন একা লিখছেন। তাই আপনার ব্লগ সাইটে আপনার ব্লগের বিষয়ের উপরে ফ্রিতে বিভিন্ন পণ্য পাবলিশ করুন। এটা যেকোনো কিছু হতে পারে, এটা হতে পারে একটা ডিজাইন রিলেটেড টেমপ্লেট, হতে পারে সফটওয়্যার। যেগুলো কিনা আপনি নিজেই তৈরি করতে পারেন খুব সহজেই এরকম। আপনি আপনার ব্লগিং ক্যারিয়ারের শুরু থেকে এ পর্যন্ত যা যা শিখছেন তার উপরে একটা ইবুক লিখে ফেলতে পারেন। সেখানে দশটা পনেরোটা পদ্ধতি নিয়ে লিখতে পারেন যে; কিভাবে ব্লগ সাইট তৈরি করা যায়, কিভাবে ব্লগ সাইট তৈরি করে সফল হওয়া যায় ইত্যাদি বিষয়।

গুগোল ডাকের মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই ইবুক লিখে ফেলতে পারবেন এবং পিডিএফ আকারে ডাউনলোড করে ফেলতে পারবেন। এরপর ওই ইবুকের ডাউনলোড লিংক আপনার ওয়েবসাইটে ফ্রিতে ডাউনলোড করা যায় এভাবে যুক্ত করে দিন। আর এই ই-বুক এর পিডিএফ বই এর মাধ্যমেও আপনি ব্যাকলিংক তৈরি করে ফেলতে পারেন। অনেকেই এটি অনলাইনে তাদের বন্ধুবান্ধবের সাথে যখন শেয়ার করবে তারা আপনার ওয়েব সাইটের লিংকটি স্বভাবতই একই সঙ্গে শেয়ার করবে। এছাড়াও অনলাইনে বিভিন্ন ওয়েবসাইট রয়েছে যেখানে পিডিএফ ই-বুক আপলোড করে শেয়ার করা যায় সেখান থেকে অনেক হাই কোয়ালিটি ব্যাকলিংক নিয়ে নেয়া যায় আপনি একটু গুগোল করলেই এসকল ওয়েবসাইটের লিং সহজেই পেয়ে যাবেন। তাই আপনি চেষ্টা করবেন আপনার ব্লগিং সাইটে যে কোন ধরনের ফ্রী প্রডাক্ট রিলিজ দেয়ার আপনার নিশ রিলেটেড।

৫# রিলেটেড ওয়েবসাইটের লিংক সহ আর্টিকেল পাবলিশ করা

পরবর্তী পদ্ধতিটি হচ্ছে আপনি আপনার নিস রিলেটেড কিওয়ার্ড লিখে গুগলে সার্চ দিবেন। গুগলের প্রথম পেজ থেকে শুরু করে বিশ পেজ পর্যন্ত সবগুলো ওয়েবসাইট আসবে আপনি যদি একটু লক্ষ করে দেখেন তাহলে সেখানে আপনি আপনার ব্লগের রিলেটেড অনেক ভালমানের কিছু ব্লগের লিঙ্ক পেয়ে যাবেন। এবং সেই লিঙ্ক গুলো একটু যাচাই-বাছাই করে মোটামুটি ছোট আকারের একটি লিস্ট আপনি তৈরি করে ফেলবেন। এবং শুধুমাত্র সেই ওয়েবসাইট গুলো নিয়েই আপনি একটি ব্লগ পোস্ট করে দিবেন।

ব্যাপারটা আমি আপনাকে আরেকটু গুছিয়ে বলি। এটা আসলে ব্লগিংয়ের একটা গুরুত্বপূর্ণ কৌশল যে কৌশল প্রয়োগ করলে খুব সহজে হাই কোয়ালিটি ব্যাকলিংক পাওয়া যায়। আর এই কৌশল ব্যবহার করে আমি আমার কয়েকটি ওয়েবসাইটের জন্য বেশকিছু হাই কোয়ালিটি ব্যাকলিংক পেয়েছি।

বেকলিংক তৈরি করা আসলে একটা ব্যক্তিগত ক্রিয়েটিভিটির উপরে নির্ভর করে। শুধুমাত্র বিভিন্ন ওয়েবসাইটে লেখা পদ্ধতি গুলো অনুসরন করলেই আপনি ব্যাকলিংক তৈরি করতে পারবেন না। আপনার পার্সোনাল কিছু পদ্ধতি আপনি নিজে প্রয়োগ করতে হবে। তো আমার পার্সোনাল অভিজ্ঞতা থেকে আমি আপনাকে বলছি আপনি আপনার ওয়েবসাইট রিলেটেড যতগুলো ওয়েব সাইট পাবেন, সেই ওয়েবসাইট গুলোর একটি লিস্ট করবেন সেখান থেকে ভালো ভালো কিছু ওয়েবসাইট বাছাই করে সেই ওয়েবসাইট গুলো সম্পর্কে একটি আর্টিকেল লিখে একটি আর্টিকেল আপনার সাইটে পাবলিশ করে দিবেন।

এখন সেই ব্লগ পোস্টে আপনি কি কি লিখতে পারেন সে বিষয়ে একটা ধারণা দেই। ধরেন কোন একটা ব্লগে কে কে লিখছে, কোন কোন বিষয়ে লিখছে, তারা কি কি অ্যাড নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত আছে বা তাদের আর্নিং সোর্সস কি, তারা কিভাবে সফল হল অর্থাৎ প্রত্যেকটা ওয়েবসাইট নিয়ে আপনি একটু প্রশংসা করবেন। এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে সেখানে সেই ওয়েবসাইটগুলোর ডুফলো লিংক দিয়ে দিবেন এ বিষয়টি আলোচনা করেছি তারপরও আমি আবার বিষয়টি বিস্তারিতভাবে আপনাকে জানাতে চেষ্টা করলাম কারণ এটা একটা স্পেশিয়াল পদ্ধতি যেটা কিনা আপনি আপনার ব্লগিং ক্যারিয়ারে হাই কোয়ালিটি ব্যাকলিংক পাওয়ার জন্য প্রয়োগ করে দেখতে পারেন।

আপনি যখনই আপনার ওয়েবসাইটের কোন আর্টিকেলে ওয়েবসাইটগুলোর প্রশংসা করেছেন তখন ওই ওয়েবসাইটের ওনাদের সাথে ইন্টারনালী আপনার একটি সম্পর্ক তৈরী হয়ে যাবে। ওয়ার্ডপ্রেস সিএমএস দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করলে এর একটি সুবিধা রয়েছে, ওয়ার্ডপ্রেসের একটি ওয়েবসাইটের সাথে আরেকটা ওয়েবসাইটের লিঙ্ক করলে, যে ওয়েবসাইটের লিঙ্ক করা হয়েছে সে ওয়েবসাইটটি নোটিফিকেশন পেয়ে যায়, পিং ব্যাক নামের একটি ফিচার রয়েছে এই ফিচারটির কারণে। আর যেহেতু বেশিরভাগ অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার ব্লগাররাই ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করে থাকে তাদের ব্লগিং এর জন্য। সুতরাং এটা আপনি অবশ্যই ট্রাই করবেন এবং আপনার নিশ রিলেটেড ওয়েবসাইট গুলোর লিস্ট তৈরি করে স্পেশিয়াল একটা আর্টিকেল পাবলিশ করে দিবেন।

প্রতিটা ওয়েবসাইট ভিজিট করলেই আপনি এবাউট আস পেজ পাবেন যেখানে ওয়েবসাইটগুলো কে বা কারা অপারেট করছে, ওয়েবসাইট টি কোন টপিক এর এ সকল বিষয়ে বেশ কিছু তথ্য সহজেই পেয়ে যাবেন। এবাউট আস পেজ পড়েই আপনি সে ওয়েবসাইট সম্পর্কে কয়েক লাইন লিখে দিলেন। এভাবে ২০ থেকে ৩০ টি ওয়েবসাইট ভিজিট করে সে ওয়েবসাইটের তথ্যগুলো সংগ্রহ করে একটি আর্টিকেল পাবলিশ করে দিবেন এবং দেখবেন সেখানে থেকে একটা সময়ে আপনিও কমপক্ষে ৪ থেকে ৫ টা ব্যাক লিঙ্ক পেয়ে গেছেন যেগুলো আপনার জন্য হাই কোয়ালিটি ব্যাকলিংক হবে।

অর্থাৎ আপনি যত বেশি ব্যাকলিংক দিবেন তত বেশি ব্যাক লিঙ্ক পাবেন। আপনি ২০ টি ব্যাকলিংক দিলেন কিন্তু, ২০ টি ব্যাকলিংক দেয়ার পরে যদি পাঁচটা ব্যাকলিংক আপনি পান তাহলে কিন্তু হাই কোয়ালিটি ৫ টা ব্যাকলিংক আপনার তৈরি হল। একোন ব্যাক লিংক না থাকার চাইতে এটা অনেক ভালো যেগুলো শতশত বুকমার্কিং সাইট ফোরাম সাইট এ সকল সাইট এর চাইতেও হাই কোয়ালিটির হবে আপনার জন্য অর্থাৎ আপনার সাইটটি দ্রুত রেংকিং এ চলে আসবে। সুতরাং অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এবং ব্লগিং বিজনেসে আপনি এই পদ্ধতিটি এপ্লাই করবেন।

৬# মন্তব্য বা কমেন্টের ইতিবাচক উত্তর দেওয়া

পরবর্তী কৌশলটি হচ্ছে আপনার ওয়েবসাইটে কেউ যদি কোন পোষ্টের কমেন্ট সেকশনে মন্তব্য বা কমেন্ট করে তা হলে প্রত্যেকটি মন্তব্য ভালোভাবে পড়ে, বুঝে তার পর ইতিবাচক উত্তর দিবেন। এটা খুবই কমন এবং প্রায় সবাই এটা করে থাকে। কিন্তু অনেক সময় দেখবেন আপনি রেগুলার যখন কনটেন্ট তৈরি করার কাজে ব্যস্ত থাকবেন তখন অনেক কমেন্ট পড়ার বা উত্তর দেয়ার সময় থাকবে না। আপনি যদি কনটেন্ট রাইটিং চালিয়ে যেতে থাকেন, রাইটিং ডেভলপ করতে থাকেন অনেক সময় দেখবেন আপনি পারছেন এটা না এটা অনেকের ক্ষেত্রেই আমি দেখেছি। কিন্তু আমি বলব আপনার যত ব্যস্ততায় থাকুক প্রত্যেকটি কমেন্টের ইতিবাচক মন্তব্য দেয়ার চেষ্টা করুন।

একটা কথা মাথায় রাখা উচিত আপনার ওয়েবসাইটে কখনোই ১০০ শতাংশ ইতিবাচক মন্তব্য পাবেন না, এটা আপনাকে আগে থেকেই আপনার মাথায় রাখতে হবে। অনেকেই হয়তো বা এসে দু-একটা আজেবাজে মন্তব্য করে দিতে পারে, অনেকের ক্ষেত্রেই আপনার আর্টিকেলটি হেল্পফুল হবে আবার, অনেকের ক্ষেত্রেই হেল্প ফুল নাও হতে পারে। সে আসলো, পড়ল, তার সময় নষ্ট হলো কিন্তু, তার কোন কাজ হলো না, যার কারণে সে একটা কমেন্ট করে দিতে পারে। এতে করে কখনোই আপনি মন খারাপ করবেন না, বা পিছিয়ে পড়বেন না। আাবার তার সাথে রাগ হয়ে আপনার লেখার সেই আর্টিকেলে রাগান্বিত কোন উত্তরও দিবেন না। এই রুলটি প্রয়োগ করবেন ১০০ শতাংশ কমেন্টের উত্তর দিবেন এবং কখনোই ১০০ শতাংশ পজেটিভ কমেন্ট পাওয়ার আশা করবেন না।

দু একটা নেগেটিভ কমেন্ট পড়লে আপনি জাস্ট ওগুলোকে এড়িয়ে যাবেন। তবে যদি বেশি নেগেটিভ কমেন্ট করতে থাকে তাহলে আপনার আর্টিকেল এর দিকে একটু মনোযোগ দিয়ে দেখুন সেখানে কোন ভুল আছে কিনা বা নতুন কিছু ছাঁটাই বা যুক্ত করার মত আছে কি না। তবে অবশ্যই প্রত্যেকটি কমেন্ট এপ্রুভ করবেন। তা না হলে এতে আপনার সার্চ রেংকিংয়ে প্রভাব পড়তে পারে অনেক ক্ষেত্রেই রিডারদের কমেন্ট অ্যাপ্রুভ না করলে তারা অনলাইনে নেগেটিভ রিএক্ট করে থাকে। আপনার আর্টিকেলে মন্তব্য আসতে থাকে এটা গুগল পছন্দ করে।

অনেকেই স্প্যাম কমেন্ট করবে সেগুলো বাদ দিয়ে আপনার ওয়েবসাইটে ইতিবাচক কমেন্ট বা নেগেটিভ কমেন্ট যে ধরনের কমেন্ট হোক না কেন আপনি প্রত্যেকটি কমিটি অ্যাপ্রুভ করার চেষ্টা করবেন। অনেকে দেখা যায় কেউ একটা ভালো কমেন্ট করছে তাকে অ্যাপ্রুভ করে দিয়েছে কিন্তু কেউ একটা রাগান্বিত কমেন্ট বা নেগেটিভ কমেন্ট করছে সেটা কার অ্যাপ্রুভ করে নাই। সে ক্ষেত্রে শুধু পজেটিভ কমেন্ট দেখে অনেক লিডার আছে যারা ধরে নেয় যে আপনি পজেটিভ কমেন্ট না হলে কমেন্ট অ্যাপ্রুভ করবেন না, যার কারণে তারা সেখানে আর কমেন্ট করে না। এতে আপনার ব্লগের রেংকিং এর উপর প্রভাব পড়ে।

যখন আপনার কনটেন্টে ভাল মন্তব্য এবং খারাপ মন্তব্য দুই ধরনের মন্তব্যই থাকে যুক্ত হতে থাকে তখন গুগল ধরেই নেয় যে এই কনটেন্টটা অনেক ভালো এখানে মানুষের আলোচনা চলছে। যে কোন বিষয়টি দেখবেন ভালো বা খারাপ আলোচনা হয়। যে বিষয়ে যত আলোচনা হয় সে বিষয় মানুষের কাছে তত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে এবং মানুষ সেটাতে আকৃষ্ট হয়। বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনি লক্ষ্য করে দেখবেন অনেক আলোচনা-পর্যালোচনা হচ্ছে সেখানে নেগেটিভ এবং পজিটিভ দুটোই থাকে, এটা আসলে খারাপ কোন কিছু না। তাই আপনি অবশ্যই আপনার ব্লগের প্রত্যেকটি কমেন্ট আপলোড করার চেষ্টা করবেন এবং ইতিবাচক উত্তর দেয়ার চেষ্টা করবেন। আর যদি কোন নেতিবাচক মন্তব্য আসসে সে ক্ষেত্রে সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে আপনি পরবর্তীতে ভাল কনটেন্ট তৈরি করবেন এতে করে এটা আপনার জন্যই বেটার হবে।

৭# অন পেজ এসইও করা

আমি পরবর্তী এবং সবশেষ যে কৌশলটি বলব সেটা হচ্ছে অনপেজ এসইও করা। আপনি যখন কোন কনটেন্ট পাবলিশ করবেন বা করছেন সেগুলো অনপেজ এসইও করা। তার মানে হচ্ছে কোন ইমেজ ব্যবহার করলে সেই ইমেজের টাইটেল, ডিসক্রিপশন, অলট্রার ট্যাগ, ব্যবহার করা। আর্টিকেল এর মধ্যে হেডিং ট্যাগ, ব্লক কোট ইউজ করা, ইন্টার লিংকিং করা ইত্যাদি বিষয়গুলো।

আপনার পুরাতন আর্টিকেলগুলো নতুন আর্টিকেল এর মধ্যে লিনকিং করে দেয়া আর এভাবে যখন আপনি কোন আর্টিকেল অন পেজ এসইও করে পাবলিশ করবেন গুগল তখন আপনার নতুন আর্টিকেলটি দেখতে এসে পুরাতন গুলো পুনরায় দেখে নেবে এতে করে আপনার সার্চ রেংকিং বৃদ্ধি পাবে। ইন্টার্নাল লিনকিং সার্চ রেংকিং এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এছাড়াও আরো অনেক সুবিধা রয়েছে। মোটকথা আপনাকে অন পেজ এসইও দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। এক্ষেত্রে আমি আপনাকে বলব আপনি যখন প্রত্যেকটি পোস্ট বা আর্টিকেল আপনার ওয়েবসাইটে পাবলিশ করবেন তখন প্রপারলি প্রতিটি আর্টিক্যালের অনপেজ এসইও টা করে তার পর সেটা পাবলিশ করবেন। তাহলে আপনার সাইট এমনিতেই গুগল সার্চ রেংকিং এ এগিয়ে থাকবে।

আপনার ব্লগ পোস্টের মধ্যে আপনি যে বিষয়ে লিখবেন সেই বিষয়ের নির্দিষ্ট দুটি থেকে একটি কিওয়ার্ড বাছাই করবেন। এবং সেই কিওয়ার্ডগুলো লেখার মাঝে মাঝে যুক্ত করে দিতে হবে, কিন্তু এই কী-ওয়ার্ড স্পামিং করা যাবে না। তার মানে হচ্ছে আর্টিকেলটি রেংকিং করার জন্য জোরপূর্বক ভাবে কিওয়ার্ডগুলো কোন আর্টিকেল এর মধ্যে বারবার ঘুরিয়ে পেচিয়ে যুক্ত করে দেয়া যাবে না। এতে করে আপনি রেংক হারাবেন কারণ গুগোল এটা অপছন্দ করে। কোন পোস্টে কনটেন্ট এর তুলনায় বেশি কিওয়ার্ড যুক্ত করলে সেটা কিওয়ার্ড সার্ফিং হয়ে যাবে এটা গুগল একদমই লাইক করেনা।

এক্ষেত্রে আমি বলব আপনি আপনার পরবর্তী ব্লগ পোস্টের জন্য যে মেইন কি ওয়ার্ড সিলেক্ট করবেন তার আগের আর্টিকেলে তিন থেকে চার বার সেই মেইন কি ওয়ার্ড যুক্ত করে দিবেন। এবং অন্যান্য রিলেটেড ওয়ার্ড গুলো দুইবার বা তিনবার করে ব্যবহার করুন। তবে আপনার আর্টিকেল যদি দুই হাজার ওয়ার্ডের হয় বা দুই হাজার ওয়ার্ডের উপরে হয় সে ক্ষেত্রে আপনি সর্বোচ্চ একটি বা দুটি বাড়িয়ে নিতে পারেন। এবং আপনার আর্টিকেল এর জন্য যে মেইন কি ওয়ার্ড আছে সেই কি ওয়ার্ডের জন্য আপনি কিছু রিলেটেড কিওয়ার্ড পেয়ে যাবেন যেগুলো এক দুবার করে ব্যবহার করতে পারেন। আপনি বিভিন্নভাবে কীওয়ার্ডগুলো ব্যবহার করতে পারেন যেমন ধরেন; হেডিং ট্যাগ গুলোর মধ্যে ব্যবহার করতে পারেন, ইমেজের অল্টার ট্যাগ এর মাধ্যে ব্যবহার করতে পারেন এবং অবশ্যই কনটেন্ট এর মাঝেও ব্যবহার করবেন।

সুতরাং এই সকল বিষয় লক্ষ্য রেখে অনপেজ এসইও করে আপনি আর্টিকেল পাবলিশ করবেন তাহলে গুগল সহজেই বুঝতে পারবে যে আপনার লেখাটি কোন বিষয়ের উপরে লেখা হয়েছে এতে আপনার আর্টিকেল এর রেংক পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকবে। এতে যখন মানুষ ওই বিষয়ে গুগলে সার্চ করবে তখন আপনার আর্টিকেলটি গুগলের টপে চলে আসার সম্ভাবনা থাকবে সবচেয়ে বেশি।

তো এই হচ্ছে আমার সাতটি কৌশল সহজেই গুগল সার্চ রেংকিং আসার জন্য। আপনি যদি এই কৌশল গুলো ফলো করেন তাহলে আপনার ব্লগের আর্টিকেল বা কনটেন্ট গুলোও গুগল সার্চ রেংকিং এ নিয়ে আসতে পারেন খুব সহজেই। আশা করি আর্টিকেলটি পড়ে আপনার ভালো লেগেছে, আর্টিকেল সম্পর্কে আপনার ভালোলাগা, মন্দলাগা কমেন্ট সেকশন এর মাধ্যমে আমাকে জানাবেন। এবং আপনার এই বিষয়ে কোন প্রশ্ন থাকলে আমাকে জানাবেন আমি আপনাকে আমার সাধ্য অনুযায়ী সাহায্য করার চেষ্টা করব।

এই দীর্ঘ আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ ভাবে মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ পরবর্তী লেখায় আবার দেখা হবে সে পর্যন্ত বিদায় আসসালামুয়ালাইকুম।

👉 অনুরূপ পোস্ট সমূহ 👇

লেখক সম্পর্কে: হাই, আমি আতিক, এই ব্লগের লেখক এবং প্রতিষ্ঠাতা। আমি একজন পার্ট টাইম ব্লগার, ইন্টারনেট মার্কেটার, এসইও এবং ওয়েব ডিজাইন এক্সপার্ট। বিস্তারিত দেখুন…

0 comments… add one

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *