অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর প্রাথমিক ধারণা

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর বেসিক কিছু বিষয় নিয়ে আজকে আমি আপনাদের সাথে কথা বলব। আর সেই বিষয়গুলো হচ্ছে নাম্বার এক “আফিলিয়েট মারকেটিং কি?”, নাম্বার দুই “অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এবং ব্লগিং এর মধ্যে পার্থক্য কি এবং কোনটা বেশি লাভজনক” এবং তিন নম্বর হচ্ছে “কোন কোন মার্কেটপ্লেসগুলো বেস্ট অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এ ক্যারিয়ার শুরু করার জন্য”।

ব্লগিং সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি?

শুরুতেই বলবো অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি? অনলাইনে এমন লাখো কোম্পানি আছে যারা অ্যাফিলিয়েট পার্টনার নিয়ে থাকে। আপনি সেই সমস্ত কোম্পানিতে একজন পার্টনার হিসেবে জয়েন করতে পারেন এবং সেই কোম্পানিগুলোর প্রোডাক্ট অথবা সার্ভিস আপনি প্রমোট করে সেল করার মাধ্যমে অ্যাফিলিয়েটিং আর্নিং করতে পারেন।

আপনার মাধ্যমে যখনই কোন একটি প্রোডাক্ট সেল হবে তখন প্রত্যেকটি সেল থেকে আপনি একটি কমিশন পাবেন যেটাকে বলা হয় এফিলিয়েট সেলস। আপনি কোন প্রোডাক্ট তৈরি করতে পারেন না আপনার কাছে কোন প্রোডাক্ট নাই, কিন্তু অন্যান্য অনেক কোম্পানি রয়েছে, যাদের কাছে অনেক প্রোডাক্ট আছে ভালো কোয়ালিটির প্রোডাক্ট আছে যেগুলোকে মানুষ ট্রাস্ট করেন এবং কিনছে। সেই প্রোডাক্ট গুলোকে আপনি আপনার অডিয়েন্সদের কাছে সেল করে দিবেন এবং পার সেলে আপনি একটা কমিশন পাবেন ।

আনলাইনে এটি দারুন একটি মাধ্যম ক্যারিয়ার গড়ার। অনলাইনে ক্যারিয়ার গড়ার যতগুলো প্রফেশন আছে তার মধ্যে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং মোস্ট পপুলার অনলাইন ক্যারিয়ার।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এবং ব্লগিং এর মধ্যে পার্থক্য কি এবং কোনটা বেশি লাভজনক?

পরবর্তীতে টপিকে চলে যাই আর সেটা হচ্ছে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এবং ব্লগিং এর মধ্যে ডিফারেন্সটা কোথায় এবং কোনটা বেশি লাভজনক।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং তো আপনি বুঝেই গিয়েছেন কিন্তু ব্লগিং জিনিসটা কি সেটা আমি আপনাকে বলে দিচ্ছি। ব্লগিং হচ্ছে আপনার একটি ওয়েবসাইট আপনি তৈরি করবেন এবং ওয়েবসাইটে আপনি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লেখালেখি করবেন। আপনি অনলাইনে বিভিন্ন সাইট ভিজিট করেন, বিভিন্ন বাংলা লেখা পড়েন। এই ওয়েবসাইট গুলো ই কিন্তু ব্লগিং সাইট। এক এক জন এক এক বিষয় নিয়ে লিখছে।

আপনিও আপনার একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে ফেলতে পারেন এবং সেখানে আপনার যে বিষয়গুলো ভালো লাগে সেই বিষয়গুলো নিয়ে লেখালেখি করতে পারেন।

আপনি হেলথ বিষয় নিয়ে লেখালেখি করতে পারেন আবার বিউটি বিষয় নিয়ে লেখালেখি করতে পারেন। আবার বিভিন্ন টেকনোলজির বিষয়ে টিউটোরিয়াল, ট্রিক্স নিয়ে আপনি লেখালেখি করতে পারেন। মোট কথা যে বিষয় গুলো আপনার কাছে ভালো লাগে, এছাড়া বিভিন্ন প্রোডাক্ট নিয়ে রিভিউ করার মাধ্যমেও আপনি ব্লগিং করতে পারেন।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হল ব্লগিং এর ছোট্ট একটি অংশ। ব্লগিং হচ্ছে একটি কমপ্লিট সলিউশন যেখানে আপনি আপনার ওয়েবসাইটে ব্লগিং বা কনটেন্ট রাইটিং করার মাধ্যমে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে পারবেন, গুগল এডসেন্সে এর মাধ্যমে আয় করতে পারবেন, আবার বিভিন্ন কোম্পানি থেকে স্পনসর্শিপ মাধ্যমে আপনি করতে পারবেন আবার চাইলে আপনি আপনার ওয়েবসাইট টিকে সেল করে দেওয়ার মাধ্যমে ও আয় করতে পারবেন। অর্থাৎ ব্লগিংয়ের মাল্টিপল রেভিনিউ সোর্স আছে আর সেই মাল্টিপল রেভিনিউ সোর্স গুলোর মধ্যে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হচ্ছে একটি।

গুগল এডসেন্সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

প্রতিদিন প্রচুর প্রশ্ন আছে আমার কাছে যে ভাই  আমি কয়টা কন্টেন্ট আমার ওয়েবসাইটে পাবলিশ করব। কত ওয়ার্ডয়ের কন্টাক্ট আমার ওয়েবসাইটে পাবলিশ করব এই বিষয়গুলো নিয়েই। সুতরাং আমি এই বিষয় গুলোর উত্তর এখনই দিয়ে দিচ্ছি, আপনি যত দিন ব্লগিং করবেন আপনাকে ততদিন ই কনটেন্ট পাবলিশ করে যেতে হবে, কনটেন্ট পাবলিশ করার কোন লিমিট নেই যে এক হাজার ওয়ার্ড দুই হাজার ওয়ার্ড বা দশটা কন্টেন কন্টেন বিশটা কন্টেন। আপনি যত দিন ব্লগিং করবেন ততদিন আপনাকে প্রতিনিয়ত কনটেন্ট পাবলিশ করে যেতে হবে।

কোন কারণে আপনার ওয়েবসাইট থেকে যদি কেউ কোন প্রোডাক্ট নাও সেল হয় তারপরও কিন্তু কোন সমস্যা নেই, আপনার ওয়েবসাইটে গুগল এডসেন্সের মাধ্যমে আয় করতে পারবেন। একজন ভিজিটর আপনার ওয়েবসাইটে যখন ভিজিট করবে তখন সে যদি কোন প্রোডাক্ট নাও কিনে এতেও আপনি গুগল এডসেন্সের মাধ্যমে আয় করতে পারবেন। অর্থাৎ  ব্লগিং করলে আপনি শুধুমাত্র অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর উপরেই ডিপেন্ডেবল না, আপনার আরও অনেকগুলো উপায় থাকবে যেগুলোর মাধ্যমে আপনি আপনার দারুন একটি ক্যারিয়ার ডেভলপ করতে পারেন।

তাই আমি আপনাকে রিকমেন্ড কোরবো কনটেন্ট রাইটিং এবং ব্লগিং এর উপর সম্পূর্ণ কন্সেন্ট্রেশন দিন, তাহলে আপনার জন্য মাল্টিপল রেভিনিউ সোর্স ডেভলপ হয়ে যাবে। সুধু মাএ অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর উপর আপনি কন্সেন্ট্রেশন করবেন না, তাহলে আপনি একটি আর্নিং সোর্স এর সাথে আপনি কানেক্টটেড থাকবেন। আর যদি আপনি ব্লগিংটা শিখে নিয়ে সঠিক ভাবে করবেন তখন, আপনি একাধিক রেভিনিউ সোর্স জেনারেট করতে পারবেন আপনার ওয়েব সাইট থেকে।

ফাইনালি এফিলিয়েট মার্কেটিং এর মধ্যে ও ব্লগিং এর মধ্যে বিরাট বর পার্থক্য আছে। এফিলিয়েট মার্কেটিং হচ্ছে একটি অংশ কোন বড় কোন কোম্পানির প্রডাক্ট বা সার্ভিস আপনি সেল করে দিবেন অনলাইনে এবং তার বিনিময়ে আপনি প্রত্যেকটা সেল থেকে একটি করে নির্দষ্ট কমিশন পাবেন। আর ব্লগিং হচ্ছে হচ্ছে আপনার নিজস্ব একটি ওয়েবসাইট থাকবে যেখানে আপনি বিভিন্ন টপিকস এর উপর কনটেন্ট রাইটিং করবেন এবং সে কন্টেন্ট রাইটিং এর মাধ্যমে আপনি বিভিন্ন  রেভিনিউ সোর্স জেনারেট করতে পারবেন অনলাইনে। আর অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হচ্ছে ব্লগিং ক্যারিয়ারের একটিমাত্র আর্নিং সোর্স, এটা ছাড়াও আরো অনেকগুলো আর্নিং সোর্স আছে যেমন গুগল এডসেন্স, স্পনসর্শিপ, ওয়েবসাইট সেল করা, পাশাপাশি আপনার নিজের প্রোডাক্ট বা সার্ভিস ও আপনার ওয়েবসাইটের মাধ্যমে করতে সেল করতে পারেন আপনার ভিজিটর দের কাছে।

কিভাবে ওয়েবসাইটে ভিজিটর পাওয়া যায় ট্রাফিক আসে এই বিষয়গুলো নিয়েও আমি বিস্তারিত আলোচনা করব পর্যায়ক্রমে পরবর্তি লেখা গুলোতে।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য কোন কোন মার্কেটপ্লেসগু বেস্ট ?

অনলাইন কোন কোন মার্কেটপ্লেসগু বেস্ট অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ও ব্লগিং ক্যারিয়ার শুরু করার জন্য। অনলাইন অনেক  কোম্পানি রয়েছে অ্যাফিলিয়েট পার্টনার নিয়ে থাকে। কিন্তু সবগুলো মার্কেটপ্লেস আসলে বেস্ট না আপনার ব্লগিং ও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ক্যারিয়ার শুরু করার জন্য।

অনেক গুলো মার্কেটপ্লেস নিয়ে বলব না তবে আমি কয়েকটি জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেস নিয়ে আলোচনা করব, আর তার মধ্যে আমাজন, আলী এক্সপ্রেস এবং থিমফরেস্ট এই মার্কেটপ্লেস গুলো হল খুবই জনপ্রিয়। আমাজন এবং আলী এক্সপ্রেস এই দুটি হল সেম টাইপের কোম্পানি। দুটি-ই অনলাইন ভিত্তিক শপিংমল যেখানে মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় প্রায় সমস্ত প্রোডাক্ট পাওয়া যায় এবং সারা পৃথিবী থেকে প্রায় লক্ষ কোটি মানুষ এই সপিংমল থেকে শপিং করে। পাশাপাশি থিমফরেস্ট হচ্ছে একটি সফটওয়্যার এবং ডিজিটাল মার্কেটপ্লেস, এখানে সুধুমত্র সফটওয়্যার বিক্রি হয়।

আপিনি এই মার্কেটপ্লেস গুলোতে নিশ্চিন্তে জয়েন করে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সু্রু করতে পারেন। এবং আপনি আপনার ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এই কোম্পানি গুলোর প্রোডাক্ট বা সার্ভিস সেল করার মাধ্যমে ভাল মানের অ্যাফিলিয়েট সেলস জেনারেট করতে পারেন, পাশাপাশি গুগল এডসেন্স, স্পনসর্শিপ ও আরও অনান্ন উপায় তো আছেই। যেগুলো নিয়ে আমি আস্তে আস্তে আরও বিস্তারিত আলোচনা করব।

তাহলে আজকে এ পর্যন্তই আমি পরবর্তিতে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পর্কে আরো বিস্তারিত আলোচনা করব আপনাকে এবিষয়টি সঠিক ভাবে আয়ত্ব করতে। আশাকরি যুক্ত থাকবেন…………ধন্যবাদ।

👉 অনুরূপ পোস্ট সমূহ 👇

লেখক সম্পর্কে: হাই, আমি আতিক, এই ব্লগের লেখক এবং প্রতিষ্ঠাতা। আমি একজন পার্ট টাইম ব্লগার, ইন্টারনেট মার্কেটার, এসইও এবং ওয়েব ডিজাইন এক্সপার্ট। বিস্তারিত দেখুন…

2 comments… add one

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *