এসইও বা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন এর প্রাথমিক ধারণা

! পোস্টটির আপডেট প্রক্রিয়া চলছে !

সুপিয় পাঠক, আজকের এই আর্টিকেল এর মাধ্যমে আমরা আপনাদেরকে বিস্তারত ভাবে এসইও (SEO) বা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (Search Engine Optimization) এর প্রাথমিক বিষয়গুলো নিয়ে ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করব। আশাকরি এই আর্টিকেল টি পড়ার পর আপনাদের মধ্যে এসইও বিষয়ে মোটামোটি কিছুটা ধারনা তৈরি হবে, যা কিনা এসইও বিষয়ে আপনাদের কে আরও গভীরে যেতে সাহায্য করবে। তাহলে চলুন শুরু করা যাক…

এসইও কি?

এসইও বা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন হচ্ছে এমন এক ধরনের পদ্ধতি যার মাধ্যমে একটি ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিন এর কাছে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলার একটি বিশেষ উপায় বা পদ্ধতি। যাতে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে সার্চ রেজাল্ট পেজে ঔ ওয়েবসাইটটি অন্য সকল সাইটকে পেছনে ফেলে সবার আগে প্রদর্শিত হতে পারে।

এই ধরনের সার্চ রেজাল্টকে বলা হয় অর্গানিক বা ন্যাচারাল সার্চ রেজাল্ট। সার্চ রেজাল্টের প্রথম পৃষ্ঠায় দশটি ওয়েবসাইটের মধ্যে নিজের ওয়েবসাইট কে নিয়ে আসাই সবার লক্ষ্য থাকে। এর কারণ হিসেবে দেখা যায় ব্যবহারকারীরা সাধারণত শীর্ষ দশের মধ্যে তার কাঙ্খিত ওয়েবসাইটকে না পেলে দ্বিতীয় পাতায় না গিয়ে অন্য কোন শব্দ ব্যবহার করে পুনরায় সার্চ করে থাকে। শীর্ষ দশে থাকার মানে হচ্ছে ওয়েবসাইটে বেশিসংখ্যক ভিজিটর পাওয়া, আর বেশিসংখ্যক ভিজিটর মানে হচ্ছে বেশি আয় করা। এজন্য সবাই মরিয়া হয়ে নিজের ওয়েবসাইট কে বিভিন্ন উপায়ে সার্চ ইঞ্জিনের জন্য উপযুক্ত করে তোলেন।

এসইও (SEO) কত প্র্রকার?

সাধারন্ত এসইও কে দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়ে থাকে। একটি অফপেজ এসইও এবং অপর টি অন পেজ এসইও।

অন পেজ এসইও কি?

অন-পেজ এসইও হল সার্চইঞ্জিন থেকে প্রাসঙ্গিক ট্র্যাফিক অর্জনের লক্ষে ওয়েবসাইটের ভিতরের পৃথক পাতা গুলিকে সার্চইঞ্জিনের অনুকূলকরণ পদ্ধতি অনুশীলন করে অপটিমাইজ করা। অন-পেজ বলতে কোনও ওয়েব সাইটের প্রতিটি আলাদা পেজের বিসয়বস্ত বা সামগ্রী এবং এইচটিএমএল সোর্স কোড উভয়কেই বোঝায়।

অফপেজ এসইও কি?

অফ-পেইজ এসইও “অফ-সাইট এসইও” নামেও পরিচিত। অফ-পেইজ এসইও সার্চ ইঞ্জিনর ফলাফলের পাতা বা পৃষ্ঠাগুলিতে আপনার সাইটের লিংক গুলোর র‌্যাঙ্কিংকে প্রভাবিত করার জন্য আপনার নিজের ওয়েবসাইটের বাইরে নেওয়া পদক্ষেপগুলি বোঝায়।

অফ সাইট এসইও করে কোনও সাইটের র‌্যাঙ্কিং অপ্টিমাইজ করে সাইটের জনপ্রিয়তা, প্রাসঙ্গিকতা, বিশ্বাসযোগ্যতা, কর্তৃত্ব এবং ব্যবহারকারীদের উপলব্ধি ইত্যাদি সম্পর্কিত বিষয় গুলো জড়িত।

এটি ইন্টারনেটের আপনার সাইটের আলোচনা, অন্যান্য সাইটগুলিতে আপনার ওয়েবসাইটের লিংকিং বা সংযোগ স্থাপন, সর্বপরি সাইট প্রচার করার মাধ্যমে এবং সাইটের বিষয় বস্তু (Contents) ভাল মানের কিনা তার দ্বারা সম্পন্ন হয়ে থাকে।

এসইও এর বিভিন্ন উপায়

এসইও করার উপায়ের উপর ভিত্তিকরে এসইও কে তিন ভাগে বিভক্ত করা হয়ে থাকে। এগুলো হল: – হোয়াইট হ্যাট এসইও, গ্রে হ্যাট এসইও এবং  ব্ল্যাক হ্যাট এসইও।

হোয়াইট হ্যাট এসইও কি?

সাদা টুপি বা হোয়াইট হ্যাট এসইও বলতে এসইও ঐ সকল কৌশলগুলিকে বোঝায় যা গুগল সহ বড় বড় সার্চ ইঞ্জিনগুলির শর্তাদি এবং শর্তাবলী মেনে চলে। হোয়াইট হ্যাট এসইওর উদাহরণগুলির মধ্যে রয়েছে: মানসম্পন্ন কনটেন্ট এবং পরিষেবাদি সরবরাহ করা।

হোয়াইট হ্যাট এসইও এর উদাহরণগুলির মধ্যে রয়েছে: –

মানসম্পন্ন কন্টেন্ট এবং পরিষেবা সরবরাহ করা
দ্রুত সাইট লোড সময় এবং মোবাইল-বন্ধুত্বপূর্ণ সাইট
বর্ণনামূলক ও মূলশব্দ সমৃদ্ধ মেটা ট্যাগ ব্যবহার কৃত কন্টেন্ট
সাইট নেভিগেসন সহজ  করা

ইত্যাদি বিষয় গুলো।

হোয়াইট হ্যাট এসইও কৌশলগুলি গুরুত্বপূর্ণ ?

কেবল হোয়াইট হ্যাট এসইও অনুশীলনের সাথে জড়িত না থাকার ব্যার্থতা আপনার সাইটটিকে গুগল এবং অন্যান্য অনুসন্ধান ইঞ্জিন পরযায় ক্রমে নিষিদ্ধ করতে পারে। এতে করে আপনি আপনার সাইটে ট্রাফিরে বড় একটি উৎসক হারাবেন। কারন এক নম্বর সার্চ ইঞ্জিন হিসাবে, গুগল প্রতিদিন কয়েক বিলিয়ন ভিজিটর দ্বারা পরিদর্শিত হয় এবং এবং গুগল তার অনুসন্ধানের ফলাফলের পাতায় আপনার সাইট উপস্থাপন করে প্রতিটি নতুন ভিজিটর দেয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি করে।

কেন হোয়াইট হাট এসইও পদ্ধতি প্রয়োগ করা উচিত ?

কারন স্পষ্টভাবে! নৈতিক, টেকসই ও সফল ওয়েবসাইট তৈরির সর্বোত্তম উপায় হল হোয়াইট হ্যাট এসইও অনুশীলন ও তার পদ্ধতিগুলির সঠিক প্রয়োগ করা।

গ্রে-হ্যাট এসইও

 

ব্ল্যাক হ্যাট এসইও কি?

হোয়াইট হ্যাট এসইওর বিপরীত হল কালো টুপি বা ব্ল্যাক হ্যাট এসইও। একে প্রতারণামূলক এসইও ও বলা যেতে পারে।

ব্ল্যাক হ্যাট এসইওর উদাহরণগুলির মধ্যে বিধিগুলি ভঙ্গ করে ক্লোনিং কার, ব্যাক লিংক কেনা বা প্রতারণামূলক কৌশল ব্যবহার করা ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত। গ্রাহকদের জন্য প্রতারণামূলক বা ক্ষতিকারক হিসাবে বিবেচিত যে কোনও কৌশল ব্ল্যাক হ্যাট এসইও হিসাবে যোগ্য হবে।  ব্ল্যাক হ্যাট এসইও কৌশলগুলি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং দিন দিন গুগলের ও অন্যান্ন সার্চ ইনজিন অ্যালগরিদমগুলি আপডেট হচ্ছে এবং এর ভাল ফলাফলের সম্ভাবনা সম্ভাবনাও কমছে।

এসইও শেখার গুরুত্ব (এসইও কেন শিখব?)

আমরা সাবাই জানি কোন প্রকার ওয়েব ট্রাফিক বা ভিজিটর ছারা কোনও ওয়েবপেজ বা ওয়েবসাইট একেবারে গুরুত্ত হীন।  বর্তমান বিশ্বের প্রায় প্রতিটি মানুষ তার প্রয়োজনীয়তার উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন তথ্য খুজে পেতে কম বা বেশি বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহারের মাধ্যমে ইন্টারনেটে প্রয়োজনীয় তথ্যের সার্চ বা খোজ করে থাকে। ইন্টারনেটে প্রয়োজনীয় তথ্য খুজে পেতে সব চাইতে বেশি ব্যাবহারও হয় এই সার্চ ইঞ্জিন গুলো। সুতরাং এই সার্চ ইঞ্জিন থেকে কোন ওয়েবসাইট এ পরযাপ্ত ওয়েব ট্রাফিক বা ভিজিটর নিয়ে আসা সম্ভব।

সঠিক ভাবে এসইও আয়ত্ত করে ওয়েবসাইট বা ওয়েবপেজ বিভিন্ন ওয়েব সাইট বা সার্চ ইঞ্জিন এ সহজেই র‌্যাঙ্কি বাড়িয়ে প্রথম পৃষ্ঠায় নিয়ে আসা যায়। আর প্রথম পৃষ্ঠায় কোন ওয়েবসাইট র‌্যাঙ্ক করানোর মাধ্যমে টারগেটেড অরগানিক ভিজিটরদের আকৃস্ট করা সম্ভব হয়।

ব্যাক্তিগত ওয়েব পেজ, ওয়েব সাইট ও ব্লগ সাইট এর ট্রাফিক বা ভিজিটর বারানোর প্রয়োজনে অথবা অনলাইনে ওয়েব ও আইটি সেক্টরে কাজের ক্যরিয়ার গরতে এসইও শেখার বিষযটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দারিয়েছে। আর এজন্যই দিন ‍দিন এসইও বিষয়ে জানা ও শেখার জন্য অনেকের মধ্যে বেশ আগ্রহও লক্ষ করা যাচ্ছে।

👉 অনুরূপ পোস্ট সমূহ 👇

লেখক সম্পর্কে: হাই, আমি আতিক, এই ব্লগের লেখক এবং প্রতিষ্ঠাতা। আমি একজন পার্ট টাইম ব্লগার, ইন্টারনেট মার্কেটার, এসইও এবং ওয়েব ডিজাইন এক্সপার্ট। বিস্তারিত দেখুন…

0 comments… add one

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *