এসইও বা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন এর প্রাথমিক ধারণা

এই আর্টিকেলের মাধ্যমে  আমি আপনাদেরকে বিস্তারত ভাবে এসইও (SEO) বা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (Search Engine Optimization) এর প্রাথমিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করব। আশাকরি এই আর্টিকেলটি পড়ার পর আপনাদের মধ্যে এসইও বিষয়ে মোটামোটি ভাল ধারনা তৈরি হবে, যা কিনা এসইও বিষয়ে আপনাদের কে আরও গভীরে যেতে সাহায্য করবে। তাহলে চলুন শুরু করা যাক…

এসইও কি?

এসইও বা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন হচ্ছে এমন এক ধরনের পদ্ধতি যার মাধ্যমে একটি ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিন এর কাছে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলা হয়। যাতে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে সার্চ রেজাল্ট পেজে উক্ত ওয়েবসাইটটি অন্য সকল সাইটকে পেছনে ফেলে সবার আগে প্রদর্শিত হতে পারে। এই ধরনের সার্চ রেজাল্টকে বলা হয় অর্গানিক বা ন্যাচারাল সার্চ রেজাল্ট।

এসইও এর উদ্দেশ্য / কেন এসইও করবেন ?

এসইও করার মূল উদ্দেশ্য হলো ভিজিটর পাওয়ার লক্ষে, ব্রান্ড পরিচিকি করতে, অথবা লিড জেনারেশনের মতো কোন উদ্দেশ্য পূরন করতে কোন সাইটের লিংক সার্চইঞ্জিনের রেজাল্ট পাতায় প্রথম দিকে নিয়ে আসা।

আমরা জানি সার্চ রেজাল্টের প্রথম পৃষ্ঠায় দশটি ওয়েবসাইটের মধ্যে নিজের ওয়েবসাইট কে নিয়ে সবার লক্ষ্য থাকে। এর কারণ হিসেবে দেখা যায় ব্যবহারকারীরা সাধারণত শীর্ষ দশের মধ্যে তার কাঙ্খিত ওয়েবসাইটকে না পেলে দ্বিতীয় পাতায় না গিয়ে অন্য কোন শব্দ ব্যবহার করে পুনরায় সার্চ করে থাকে। শীর্ষ দশে থাকার মানে হচ্ছে ওয়েবসাইটে বেশিসংখ্যক ভিজিটর পাওয়া, আর বেশিসংখ্যক ভিজিটর মানে হচ্ছে বেশি প্রচার, তথ্য সংগ্রহ, ও আয় করার সুযোগ। এজন্য সবাই মরিয়া হয়ে নিজের ওয়েবসাইট কে বিভিন্ন উপায়ে সার্চ ইঞ্জিনের জন্য উপযুক্ত করে তোলেন।

এসইও কত প্র্রকার?

সাধারন্ত এসইও কে দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়ে থাকে। একটি অফপেজ এসইও এবং অপর টি অন পেজ এসইও।

অন পেজ এসইও কি?

অন-পেইজ এসইও “অন-সাইট এসইও” নামেও পরিচিত। খুব সহজ ভাবে বলতে গেলে অনপেজ এসইও হলো আপনি আপনার সাইট কেমন সে সম্পের্কে যা বলছে। তবে একটু সংজ্ঞায়িত করলে অন-পেজ এসইও (On page SEO) হল সার্চইঞ্জিন থেকে প্রাসঙ্গিক ট্র্যাফিক অর্জনের লক্ষে ওয়েবসাইটের ভিতরের পৃথক পাতা গুলিকে সার্চইঞ্জিনের অনুকূলকরণ পদ্ধতি অনুশীলন করে অপটিমাইজ করা। অন-পেজ বলতে কোনও ওয়েব সাইটের প্রতিটি আলাদা পেজের বিসয়বস্তু বা কন্টেন্ট এবং এইচটিএমএল সোর্স কোড উভয়কেই বোঝায়।

অফ পেজ এসইও এর ক্ষেত্র সমূহ

  • মানসম্পন্ন কন্টেন্ট সরবরাহ করা
  • দ্রুত সাইট লোড এবং মোবাইল-বান্ধব সাইট
  • সার্চইন্জিন ফ্রেন্ডলি অপটিমাইজ কৃত কন্টেন্ট
  • সাইট নেভিগেসন সহজ  করা
  • এক্সএমএল (XML) সাইটম্যাপ তৈরি করা

ইত্যাদি বিষয় গুলো।

অফপেজ এসইও কি?

অফ-পেইজ এসইও “অফ-সাইট এসইও” নামেও পরিচিত।খুব সহজ ভাবে বলতে গেলে অফপেজ এসইও (Off page SEO) হলো অন্যেরা আপনার ওয়েব সাইট সম্পের্কে যা বলছে। তবে একটু সংজ্ঞায়িত করলে অফ-পেইজ এসইও হলো সার্চ ইঞ্জিনর রেজাল্ট বা ফলাফলের পাতায় আপনার সাইটের লিংক গুলোর র‌্যাঙ্কিংকে প্রভাবিত করার জন্য আপনার নিজের ওয়েবসাইটের বাইরে নেওয়া পদক্ষেপগুলি।

অফ-পেইজ এসইও করে কোনও সাইটের র‌্যাঙ্কিং অপ্টিমাইজ এর সাথে সাইটের জনপ্রিয়তা, প্রাসঙ্গিকতা, বিশ্বাসযোগ্যতা, কর্তৃত্ব এবং ব্যবহারকারীদের উপলব্ধি ইত্যাদি সম্পর্কিত বিষয় গুলো জড়িত। এটি ওয়েব সাইট সম্পের্কে  ইন্টারনেটের অন্যান্য সাইটগুলিতে আলোচনা, লিংকিং বা সংযোগ স্থাপন, সর্বপরি সাইট এবং সাইটের বিষয় বস্তুুর ধরন ও মান প্রচার করার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়ে থাকে।

অফ পেজ এসইও এর ক্ষেত্র সমূহ

  • ব্লগ ও য়েবসাইট গেষ্ট পোষ্ট
  • মন্তব্য ও প্রশ্ন উত্তর সাইট
  • কমিউনিটি ফোরাম
  • সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
  • সার্চ ইঞ্জিন গুলোতে এক্সএমএল (XML) সাইটম্যাপ সাবমিট করা,ইত্যাদি বিষয় গুলো।

এছাড়াও আরও অনেক মাধ্যম রয়েছে যেগুলো অফ পেজ এসইও এর জন্য ব্যাবহার করা যেতে পারে।

এসইও এর বিভিন্ন উপায়

এসইও করার উপায়ের উপর ভিত্তিকরে এসইও কে তিন ভাগে বিভক্ত করা হয়ে থাকে। এগুলো হল: – হোয়াইট হ্যাট এসইও, গ্রে হ্যাট এসইও এবং  ব্ল্যাক হ্যাট এসইও।

হোয়াইট হ্যাট এসইও কি?

সাদা টুপি বা হোয়াইট হ্যাট এসইও বলতে এসইও এর ঐ সকল কৌশলগুলিকে বোঝায় যা গুগল সহ বড় বড় সার্চ ইঞ্জিনগুলির শর্তাবলী মেনে চলে। আন্যভাবে বললে ইথিক্যাল উপায়ে যে এসইও করা হয় তাই হোয়াইট হ্যাট এসইও।

সার্চইন্জিন গুলো হোয়াইট হ্যাট এসইও কে সবসময় হাই প্রায়োরিটি দিয়ে থাকে। এর ফলে হোয়াইট হ্যাট এসইও করা ওয়েব সাইট সার্চইন্জিন এর রেজাল্ট পেজে দীর্ঘ সময় ভাল র‌্যাংক পেয়ে থাকে। সাধারন্ত যে কোন সার্চইন্জিন এর অ্যালগরিদম গুলো সময়ের সাথে পরিবর্তিত হলেও হোয়াইট হ্যাট এসইও এর ভাল ফলাফল অব্যাহত থাকে।

হোয়াইট হ্যাট এসইও কেন গুরুত্বপূর্ণ ?

কেবল হোয়াইট হ্যাট এসইও অনুশীলনের সাথে জড়িত না থাকার ব্যার্থতা আপনার সাইটকে গুগল এবং অন্যান্য সার্চইঞ্জিন পরযায়ক্রমে সার্চ রেজাল্ট পাতায় কম প্রায়োরিটি দিয়ে সরাতে থাকে। এছাড়াও কোন কোন ক্ষেত্রে সাইটের লিংক সম্পূর্ণভাবে মুছে ফেলতে পারে। এতে করে আপনি আপনার সাইটে ট্রাফিরে বড় একটি উৎসক হারাবেন।

কারন বর্তমানে পৃথিবির এক নম্বর সার্চ ইঞ্জিন হিসাবে গুগল প্রতিদিন কয়েক বিলিয়ন ভিজিটর দ্বারা পরিদর্শিত হয় এবং গুগল তার অনুসন্ধানের ফলাফল পাতায় আপনার সাইট উপস্থাপিত করে নতুন ভিজিটর দেয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি করে। আর এজন্যই নৈতিক, টেকসই ও সফল ওয়েবসাইট তৈরির সর্বোত্তম উপায় হল হোয়াইট হ্যাট এসইও অনুশীলন ও তার পদ্ধতিগুলির সঠিক প্রয়োগ করা।

ব্ল্যাক হ্যাট এসইও কি ?

হোয়াইট হ্যাট এসইওর বিপরীত হল কালো টুপি বা ব্ল্যাক হ্যাট এসইও। একে প্রতারণামূলক এসইও ও বলা যেতে পারে।

ব্ল্যাক হ্যাট এসইওর উদাহরণগুলির মধ্যে বিধিগুলি ভঙ্গ করে ক্লোনিং কারা, ব্যাক লিংক কেনা বা প্রতারণামূলক কৌশল ব্যবহার করা ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত। গ্রাহকদের জন্য প্রতারণামূলক বা ক্ষতিকারক হিসাবে বিবেচিত যে কোনও কৌশল ব্ল্যাক হ্যাট এসইও হিসাবে যোগ্য হবে।  ব্ল্যাক হ্যাট এসইও কৌশলগুলি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং দিন দিন গুগলের ও অন্যান্ন সার্চ ইনজিন অ্যালগরিদমগুলি আপডেট হচ্ছে এবং এর ভাল ফলাফলের সম্ভাবনা সম্ভাবনাও কমছে।

ব্ল্যাক হ্যাট এসইও কেন পরিহার করা উচিত ?

সব সময় একটি কথা মাথায় রাখা জরুরি যে বিভিন্ন জনপ্রিয় সার্চইন্জিনগুলো আমি ও আপনার থেকে ওনেক বুদ্ধিমান। আমরা যে ব্ল্যাক হ্যাট পদ্ধতি আবিস্কার করব সার্চইন্জিন গুলো আজ না হয় কাল খুব সহজেই তা ঠিকই ধরে ফেলতে পারবে। আর একবার সার্চইন্জিনের কাছে কোন সাইট ব্ল্যাক লিস্টেড হলে তার পর উক্ত সার্চইন্জিন থেকে ভাল র‌্যাংক পাওয়া আনেক কঠিন।

সুতরাং আপনি যদি ওয়েব সাইট তৈরি করে সফল হতে চান ও দীর্ঘ মেয়াদী ফলা ফল আশা করেন তাহলে ব্ল্যাক হ্যাট এসইও থেকে বিরত থাকা আপনার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

গ্রে-হ্যাট এসইও কি ?

ব্ল্যাক হ্যাট এসইও ও হোয়াইট হ্যাট এসইও এই দুটির মাঝামঝি হলো গ্রে-হ্যাট এসইও। গ্রে-হ্যাট এসইও কে সংজ্ঞায়িত করলে কোন সাইট র‌্যাংক করাতে এমন সব কৌশল প্রয়োগ করাকে বোঝানো হয় যেখানে খুব সুচারু রুপে ব্ল্যাক হ্যাট এসইও এর কিছু অংশ ব্যাবহার করা হয়। গ্রে-হ্যাট এসইও সাধারন্ত সাইট ব্যবহারকারীদের আকৃষ্ট করতে কোন প্রতারনা মূলক কৌশল প্রয়োগ করা হয়না, তবে সার্চইন্জিন গুলোকে কিছুটা বিব্রত করে সার্চ রেজাল্ট পাতায় বারতি সুবিধা নেওয়া হয়।

ব্ল্যাক হ্যাট এসইও করার পাশাপাশি অনেক সময় কিছু সংক্ষক এসইও এক্সপার্টগন এ পদ্ধতি অবলম্বন করে থাকেন।

এসইও শেখার গুরুত্ব / এসইও কেন শিখবেন ?

আমরা সাবাই জানি কোন প্রকার ওয়েব ট্রাফিক বা ভিজিটর ছারা কোনও ওয়েবপেজ বা ওয়েবসাইট একেবারে গুরুত্ত হীন। বর্তমান বিশ্বের প্রায় প্রতিটি মানুষ তার প্রয়োজনীয়তার উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন তথ্য খুজে পেতে কম বা বেশি বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহারের মাধ্যমে ইন্টারনেটে প্রয়োজনীয় তথ্যের সার্চ বা খোজ করে থাকে। ইন্টারনেটে প্রয়োজনীয় তথ্য খুজে পেতে সব চাইতে বেশি ব্যাবহারও হয় এই সার্চ ইঞ্জিন গুলো। সুতরাং এই সার্চ ইঞ্জিন থেকে কোন ওয়েবসাইট এ পরযাপ্ত ওয়েব ট্রাফিক বা ভিজিটর নিয়ে আসা সম্ভব।

সঠিক ভাবে এসইও আয়ত্ত করে ওয়েবসাইট বা ওয়েবপেজ বিভিন্ন ওয়েব সাইট বা সার্চ ইঞ্জিন এ সহজেই র‌্যাঙ্কি বাড়িয়ে প্রথম পৃষ্ঠায় নিয়ে আসা যায়। আর প্রথম পৃষ্ঠায় কোন ওয়েবসাইট র‌্যাঙ্ক করানোর মাধ্যমে টারগেটেড অরগানিক ভিজিটরদের আকৃস্ট করা সম্ভব হয়।

ব্যাক্তিগত ওয়েব পেজ, ওয়েব সাইট ও ব্লগ সাইট এর ট্রাফিক বা ভিজিটর বারানোর প্রয়োজনে অথবা অনলাইনে ওয়েব ও আইটি সেক্টরে কাজের ক্যরিয়ার গরতে এসইও শেখার বিষযটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দারিয়েছে। আর এজন্যই দিন ‍দিন এসইও বিষয়ে জানা ও শেখার জন্য অনেকের মধ্যে বেশ আগ্রহও লক্ষ করা যাচ্ছে।

👉 অনুরূপ পোস্ট সমূহ 👇

লেখক সম্পর্কে: হাই, আমি আতিক, এই ব্লগের লেখক এবং প্রতিষ্ঠাতা। আমি একজন পার্ট টাইম ব্লগার, ইন্টারনেট মার্কেটার, এসইও এবং ওয়েব ডিজাইন এক্সপার্ট। বিস্তারিত দেখুন…

0 comments… add one

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।