কিভাবে ভালো টপিক বা নিস নির্বাচন করবেন

ব্লগিং এবং অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে কর্নেশ বা টপিকটি বাছাই করলে আপনার জন্য সবচাইতে ভালো হবে। এই টপিকের উপরেই আজকের আর্টিকেলে আমি আপনার সাথে কথা বলব। অনলাইনে এমন অনেকেই আছেন যারা অনেক কিছু জানেন এবং করছেন। আবার অনেকেই আছেন একেবারেই নতুন কিছুই জানেন না অনেকটা এরকম কিন্তু শেখার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। আজকের লেখাতে আমি এই দুই ধরনের পাঠকদের জন্য আর্টিকেলটিতে আলোচনা করতে যাচ্ছি।যেন এই দুই ধরনের পাঠকরাই বুঝতে পারে যে তার জন্য কোন এটাতে গেলে সে ব্লগিংয়ে ভালো করতে পারবে।

১# অভিজ্ঞরা যেভাবে টপিক বা নিস নির্বাচন করবেন

শুরুতেই আমি তাদের জন্য মেসেজ দিব যারা অলরেডি এক্সপার্ট যেমন ধরেন; গ্রাফিক ডিজাইনার, ভিডিও এডিটর, ইউ আই ইউ এক্স ডিজাইনার, ওয়েব ডিজাইনার, ওয়েব ডেভলপার, মেডিকেল স্টুডেন্ট বা ডক্টর এ ধরনের পাঠকদের জন্য। আমি আপনাকে প্রথমেই কিছু এডভাইস দিচ্ছি আর সেটা হচ্ছে আপনার আর কোন নিস বাছাই করার কোন প্রয়োজন নেই।

আপনি যদি মেডিকেল সাইন্স স্টুডেন্ট হয়ে থাকেন বা একজন মেডিকেল ডাক্তার হয়ে থাকেন, সে ক্ষেত্রে আপনি একটি হেলথ টিপস রিলেটেড ওয়েবসাইট খুলতে পারেন। আপনি যদি একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হন যেমন; ডিজাইনার তাহলে এই সফটওয়্যার ডিজাইনের উপরে আপনি একটি ওয়েবসাইট খুলে ফেলুন এবং সেখানে আপনার স্কিলের উপর বিভিন্ন ধরনের আর্টিকেল পাবলিশ করবেন। হয়তো আপনি মেডিকেল জব করছেন হয়তো আপনি ফ্রিল্যান্সিং করছেন ক্লায়েন্টের জন্য কাজ করছেন। এটার পরেও কিন্তু আপনার অনেক ফ্রি সময় থাকে, সবার কাছে তো আর একরকম থাকে না, অনেকের কাছে অনেক ক্লায়েন্ট থাকে আবার অনেকের কাছ থাকে না। কিন্তু তার মধ্যেও ভালো স্কিল আছে যার কাছে অনেক ক্লায়েন্ট নেই সুতরাং এক্ষেত্রে বাড়তি সময়টুকু কাজে লাগিয়ে আপনার নলেজ এর উপরে ভিত্তি করে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে সেখানে বিভিন্ন বিষয়ের উপরে লেখালেখি শুরু করে দিন।

আমি যদি গ্রাফিক ডিজাইন দিয়ে উদাহরণ দেই তাহলে ধরুন; কিভাবে গ্রাফিক ডিজাইন করতে হয়, গ্রাফিক ডিজাইন শেখার জন্য কোন কোন বিষয়গুলো মাথায় রাখা উচিত, কি কি প্রয়োজন হতে পারে গ্রাফিক ডিজাইন শেখার জন্য, কোন কোন কালার কম্বিনেশন গুলো সবচাইতে বেস্ট, কোন কোন টুলসগুলো সবচাইতে বেস্ট, ফটোশপে কিভাবে ব্যবহার করতে হয়, ইলাস্ট্রেটর কিভাবে ব্যবহার করতে হয়, সেগুলোর টুলস গুলোর পরিচিতি। আমি মনে হয় এখানেই গ্রাফিক ডিজাইন এর উপরে ১০ থেকে ১৫ টা টপিক অলরেডি বলে দিলাম গ্রাফিক ডিজাইনারদের জন্য। জাস্ট একটা টপিক দিয়েই আমি উদাহরণ দিলাম মাত্র।

আপনি একজন মেডিকেল ডাক্তার, আপনি একজন ইঞ্জিনিয়ার, আপনি একজন ছাত্র, আপনি যে কোন পেশায় কোন একটি কাজ করছেন। আমি বলব এটাকে একটি উদাহরণ হিসেবে নিন। আপনি যে বিষয়গুলি অলরেডি পারেন বা অভিজ্ঞ ঠিক সেই বিষয়গুলি শেখার জন্য কিন্তু অনেকেরই প্রয়োজন পড়ে, এর জন্য আপনি যে বিষয়ে অভিজ্ঞ ঠিক সে বিষয়েই লেখা শুরু করে দিন। বিভিন্ন টিপস, ট্রিক্স, টিউটোরিয়াল ইত্যাদি দেয়ার মাধ্যমে অন্যকে সহযোগিতা করুন। ব্লগিং হচ্ছে সহযোগিতা করার পেশা এখানে আপনি ব্লগিং করার পাশাপাশি অন্যকে সহযোগিতা করতে পারবেন। আপনি যত বেশি মানুষকে সাহায্য করতে পারবেন আপনার ওয়েবসাইটে তত বেশি মানুষ আসবে।

জাস্ট একটা কথা চিন্তা করেন আপনি কেন আমার এই লেখাটি পড়ছেন? আপনি আমার ওয়েবসাইট কেন আসছেন? কারণ আমি আপনাকে কোন কিছু দিচ্ছি, আপনাকে হেল্প করার চেষ্টা করছি। এখন আপনি যদি আমার ওয়েবসাইটে এসে কোন কিছুই শিখতে পারলেন না তাহলে কি আপনি এই সাইটে লেখাগুলো পড়ার জন্য আবার আসবেন? ইউটিউবে যতগুলো ভিডিও দেখছেন আপনারই প্রয়োজনে দেখছেন, যেটা আপনার প্রয়োজন হতে পারে বা কোন কিছু শিখতে পারেন অথবা আপনি এন্টারটেইনমেন্ট নিতে পারেন সুতরাং একটি ওয়েবসাইট ইউটিউব এগুলি সব একই ধরনের। আপনাকে মানুষকে দিতে হবে, আপনি মানুষকে যত বেশি সহযোগিতা করতে পারবেন আপনার ওয়েবসাইট আপনার ব্লগ ততবেশি জনপ্রিয়তা পাবে।

১# অল্প অভিজ্ঞতাসম্পন্ন রা যেভাবে টপিক বা নিস নির্বাচন করবেন

এখন বলব একেবারেই যারা নতুন কোন কাজ জানেন না কিন্তু শেখার চেষ্টা করে যাচ্ছে তারা কিভাবে ব্লগিং করবে। যারা একেবারেই নতুন বা কোন বিষয়ে অত ভালো দক্ষ হয়ে ওঠেনি তাদের মধ্যে প্রায়ই একটি সমস্যা দেখা যায়, সেটা হচ্ছে এরকম যে; ভাই আমি কোন টপিকটা সিলেক্ট করব, কোন টপিকে লাভবান হওয়া যায় বা কোন বিষয় নিয়ে কাজ করলে আমি দ্রুত রেংকিং এ আসতে পারবো এই বিষয়গুলো নিয়ে তারা খুব বেশি চিন্তা ভাবনা করে আর এই অতিরিক্ত চিন্তা করতেই তারা ব্লগিং ক্যারিয়ার শুরু করতে পারে না। আপনার জন্য আমি এই পরামর্শ দিব যে কোন টপিক সিলেট করা, অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট অ্যাপ্রুভ করা, আপনার ওয়েবসাইটে এফিলিয়েট লিংক যুক্ত করা, এগুলোর কথা একদমই ভুলে যান। এগুলো ব্লগিং না, ব্লগিং হচ্ছে আপনার একটি ওয়েবসাইটে আপনি যেকোন বিষয়ে লেখালেখি করতে পারেন। তবে হ্যাঁ একটি ভালো টপিক সিলেক্ট করা আসলে একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার, কিন্তু আপনি যেহেতু একেবারেই নতুন এর জন্য আপনি বুঝতে পারবেন না কোনটা আপনার জন্য ভালো হবে।

আপনার ইনফরমেশনের জন্য আমি বলে দিচ্ছি পৃথিবীতে যতগুলো নিস আছে বা যতগুলো টপিক আছে তার প্রত্যেকটি টপিকের মার্কেট মার্কেট ডিমান্ড আছে। যে কোন টপিক নিয়ে আপনি কাজ করলে গুগল সার্চ রেংকিং এ আসতে পারবেন, ভাল প্রফিট জেনারেট করতে পারবেন, ভালো মানের একটি ক্যারিয়ার তৈরি সুযোগ সৃষ্টি হবে। তবে ওই পর্যন্ত যাওয়ার আগে আপনাকে অবশ্যই বেসিক লেভেল টা সম্পূর্ণ করতে হবে। ক্লাস ওয়ান, টু, থ্রি, ফোর, ফাইভ এগুলো বাদ দিয়ে ক্লাস সিক্স এ আপনি ভর্তি হতে পারবেন না, তাহলে আপনি কিছুই বুঝতে পারবেন না। আর এটাই আপনার অনেকটা এরকমই আপনার মধ্যে হচ্ছে। আপনি ক্লাস ওয়ান, টু, থ্রি, ফোর, ফাইভ এগুলো বাদ দিয়ে সরাসরি এক লাফে ক্লাস সিক্সে ভর্তি হতে চাচ্ছেন।

গুগল এডসেন্স অ্যাপ্রভাল, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এ জয়েন করা তখনই আসবে যখন আপনার ওয়েবসাইটে কনটেন্ট থাকবে। এখন অনেকেই এরকম প্রশ্ন করে যে ভাইয়া আমি যদি গুগল অ্যাডসেন্সে অ্যাপ্রভাল পাই আমি যদি আফিলিয়েট অ্যাপ্রভাল পাই তাহলে আমার ওয়েবসাইটে কি ভাবে সেগুলোকে লিংক করব….আমি কি করব? দেখুন ওয়েবসাইটে কনটেন্ট থাকার মানে এই না যে প্রত্যেকটা কনটেন্টের মধ্যেই আপনার এফিলিয়েট লিংক থাকতে হবে। আর যখন আপনি কন্টেন্ট লিখে আফিলিয়েট, অ্যাডসেন্স ইত্যাদি অ্যাপ্রুভাল পেয়ে যাবেন তখন এসকল বিষয় নিয়ে আপনার চিন্তা থাকবে না আপনি নিজেই এটা করে ফেলতে পারবেন।

আপনার জন্য আমার যে পরামর্শ থাকবে সেটা হচ্ছে একজন একজন নতুন হিসেবে আপনি ইতিমধ্যেই যে সকল বিষয় গুলি শিখে ফেলেছেন যদিও বিষয়গুলি খুবই সিম্পল তবু আপনি ঐ সকল বিষয়ের ওপর টিউটোরিয়াল, টিপস, ট্রিক্স, ইত্যাদি নিয়ে আর্টিকেল লিখে ফেলুন। আমি আপনাকে একটি উদাহরণ দেই; কিভাবে ইউটিউব একাউন্ট খুলতে হয়, কিভাবে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলতে হয়, কিভাবে একটি ফেসবুক পেইজ ক্রিয়েট করতে হয়, কিভাবে একটি ফেসবুক গ্রুপ খুলতে হয়, কিভাবে ইউটিউব চ্যানেলে ব্যানার আর্ট যুক্ত করতে হয়, কিভাবে ইউটিউব চ্যানেলের লোগো বা আইকন যুক্ত করতে হয়, এই সকল বিষয় কিন্তু খুবই সহজ এবং সিম্পল। এবং আপনাদের মধ্যে অনেকেই আছেন এগুলো ইতিমধ্যেই পারেন।

তো দেখেন আমি একটা উদাহরণ দিতেই কতগুলো টপিক বলে ফেললাম। হয়তো এগুলো দিয়ে আপনার কোনো অ্যাফিলিয়েটস আসবেনা, আপনার কোন অ্যাফিলিয়েট ইনকাম হবে না, কিন্তু এগুলো দিয়ে কনটেন্ট রাইটিং করতে করতে আপনি কনটেন্ট রাইটিংয়ের অনেক কিছুই শিখে ফেলতে পারবেন এবং আমি যে আট দশটা টপিকের কথা বললাম এই আট দশটা টপিক নিয়ে লিখতে গেলেই আরো আট দশটা টপিক আপনার মাথায় চলে আসবে। সেগুলো নিয়েও আপনি লিখুন দেখবেন লিখতে লিখতে কনটেন্ট রাইটিংয়ের যে একটা অভিজ্ঞতার বিষয় আছে সেটা আপনার মধ্যে দারুণভাবে বৃদ্ধি পাবে। এবং অটোমেটিক্যালি একটা সময়ে গিয়ে আপনি বুঝতে পারবেন কোন নিস বা টপিকটা আপনার জন্য সবচাইতে বেস্ট হবে।

আপনাকে হাজার নিশ যদি বলে দেই আপনার লাভ হবেনা। আপনার জন্য কোন নিশ ভালো হবে একমাত্র আপনি নিজেই সেটা বের করতে পারবেন। সেটা পৃথিবীর আর কেউ আপনার জন্য বের করে দিতে পারবে না। তাই বলবো একদম নতুন হিসেবে এই নিশ পছন্দ করা, এফিলিয়েট লিংক কিভাবে যুক্ত করবেন সেটা নিয়ে চিন্তা করা, গুগল অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট অ্যাপ্রুভ হয় না কেন?, আমি আরনিং কিভাবে করব এগুলো একবারেই মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন।

এগুলো যদি শুরুতেই এত চিন্তা করেন এগুলো নিয়েই যদি পড়ে থাকেন তাহলে ব্লগিংয়ে আপনি সফলতার দ্বারপ্রান্তে কখনোই পৌঁছতে পারবেন না। এভাবে আপনার অনেক গুরুত্বপূর্ণ সময় শুধু শুধু নষ্ট হয়ে যাবে তাই আপনি যে বিষয়ের উপরে জানেন সেই বিষয়ের উপর এই আপনার ওয়েবসাইটে আর্টিকেল পাবলিশ করা শুরু করে দিন যত সহজই হোক, যত সিম্পল ই হোক না কেন আপনি আর্টিকেল লিখে আপনার ওয়েবসাইটে পাবলিশ করতে থাকুন।

সারাংশ

সুতরাং নতুনদের জন্য ফাইনালি আমার এটাই পরামর্শ থাকবে যে কেন গুগোল অ্যাডসেন্সে অ্যাপ্রভে হয় না, এফিলিয়েট লিংক গুলো কিভাবে পাবলিশ করব, আমাজন এ কিভাবে একাউন্ট ভেরিফাই করব, এখানে কিভাবে একাউন্ট ক্রিয়েট করব, ওখানে কি কিভাবে একাউন্ট ক্রিয়েট করব এগুলোর পেছনে সময় নষ্ট করা বন্ধ করুন। এবং নিজের ওয়েবসাইট শুরু করে এই মুহূর্তে যে বিষয়গুলো আপনি পারেন সেই বিষয়গুলোতেই আপনি লেখালেখি শুরু করে দিন। অন্যান্য পেশার মতো কনটেন্ট রাইটিংও একটি পেশা, এ পেশার আপনি ধৈর্য ধরে কাজ করলে অবশ্যই সফলতা আসবে। আর সফলতা পাওয়ার জন্য প্রথমে ধৈর্য ধরে আপনাকে কাজটা শিখে নিতে হবে।

সবশেষে অভিজ্ঞদের জন্য আমি বলব আপনার যেই বিষয়ের উপরে অভিজ্ঞতা আছে আপনি সেই বিষয়ের উপরে লেখা শুরু করে দিন। কোন নিশ বাছাই বা সিলেক্ট করার দরকার নেই। একটু লক্ষ্য করলে দেখতে পারবেন আপনি যে বিষয়ে জানেন সেই বিষয়ের কিন্তু মার্কেট রয়েছে। এবং আপনার মত আর কয়েকজন অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা অলরেডি কনটেন্ট লিখে তাদের ব্লগিং ক্যারিয়ার চালিয়ে যাচ্ছে, সার্চ ইঞ্জিনে ভালো রেংক পাচ্ছে, ভালো রেভিনিউ জেনারেট করতে পারছে। অসংখ্য অপরচুনিটি তৈরি হয়ে যাবে আপনার এই শুরু করার মাধ্যমেই।

পাঠক আশা করি আপনি আপনার ব্লগিং ক্যারিয়ারে আমার এই পরামর্শগুলো প্রয়োগ করার চেষ্টা করবেন। তাহলে আশা করি আপনি আপনার ব্লগিং ক্যারিয়ারে ভালো একটি ফলাফল পেয়ে যাবেন। নিচে কমেন্ট করে ব্লগিং এর কোন কোন বিষয়ে আপনি জানতে চান ও শিখতে চান তা আমাকে বলবেন। যেন আমি ওই বিষয়গুলির উপরেও আপনাকে আরো আর্টিকেল দিতে পারি, আপনাকে শেখাতে সহায়তা করার জন্য।

 

👉 অনুরূপ পোস্ট সমূহ 👇

লেখক সম্পর্কে: হাই, আমি আতিক, এই ব্লগের লেখক এবং প্রতিষ্ঠাতা। আমি একজন পার্ট টাইম ব্লগার, ইন্টারনেট মার্কেটার, এসইও এবং ওয়েব ডিজাইন এক্সপার্ট। বিস্তারিত দেখুন…

0 comments… add one

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *