ব্লগিং এর মাধ্যমে অর্থ উপার্জন সম্পর্কে জানুন

অনলাইনে উপার্জনের যতগুলো মাধ্যম রয়েছে তার মধ্যে ব্লগিং হচ্ছে সবচেয়ে স্থায়ী ও মজবুত মাধ্যম। ব্লগিং এর সাথে গুগল অ্যাডসেন্স এর একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে।এজন্য যারা ব্লগিং করে গুগুল এডসেন্স এর মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করতে চান তাদের ব্লগিং সম্পর্কে পরিস্কার ধারনা থাকা প্রয়োজন। প্রধানত: ব্লগিং সাইটের জন্যই গুগল তার অ্যাডসেন্স প্রোগ্রামটি চালু করেছে।

ভার্চুয়াল জগতে একটি ব্লগিং সাইট পৃথিবীর বুকে এক টুকরো জমির চেয়েও মূল্যবান হতে পারে। একটি মানসন্মত ব্লগিং সাইটে যে কতভাবে উপার্জন হতে পারে-তা সত্যি কল্পনাতীত।

গুগল অ্যাডসেন্স এর মাধ্যমে, প্রাইভেট এ্যাড এর মাধ্যমে, এ্যাফেলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে, এমন অনেক সাইট রয়েছে, যারা একটি  ভাল মানের সাইটে তাদের লিংক সংযোজনের বিনিময়ে অর্থ প্রদান করে। এ ধরনের বহুমূখী উপার্জনের রাস্তা খুলে যায় একটি মানসন্মত ব্লগিং সাইটের জন্য।

Blogging about Food

ফুড ব্লগিং

ব্লগিং কি?

এবার আসি ব্লগিং বলতে আমরা কি বুঝি, সাধারণভাবে ব্লগিং বলতে কোন সাইটের কনটেন্ট এর মাধ্যমে অনলাইনে সেবা বা সার্ভিস প্রদানকে বুঝায়। বিশ্বে সেবা প্রদানের অসংখ্য বিষয় রয়েছে, যার মাধ্যমে আপনি ব্লগিং করতে পারেন। যেমন: যদি একটি গ্রিটিংস কার্ড প্রয়োজন হয় তাহলে Free Greetings card দিয়ে সার্চ দিলে কয়েক হাজার সাইট পাওয়া যাবে, যারা বিভিন্ন ধরনের গ্রিটিংস কার্ড (যেমন: জন্মদিন, বিবাহ্, বন্ধুত্ব, আমন্ত্রণ পত্র ইত্যাদি) বিনামূল্যে সরবরাহ করছে তাদের থেকে এই সার্চ রেজাল্টটি পাওয়া যাবে। এই যে তারা একটি সার্ভিস দিচ্ছে – এটাই এক ধরনের ব্লগিং।

গুগলে গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন, ইত্যাদি শেখার জন্য সার্চ দিন, দেখবেন-হাজার হাজার সাইট রয়েছে, সম্পূর্ণ ফ্রি টিউটোরিয়াল দিচ্ছে এসব সাইট। এটাই হল ব্লগিং এর সেবা। লক্ষ্য করলে দেখবেন, এসব সাইটের অধিকাংশই তাদের সাইটের আয়ের পথ হিসেবে ব্যবহার করছে গুগল অ্যাডসেন্স।

পেশা হিসাবে ব্লগিং / ব্লগিং এর সুবিধা

আপনি কেন ব্লগিং কে পেশা হিসাবে নিবেন সে বিষয় নিয়ে নিচে কয়েকটি পয়েন্ট উল্লেক্ষ করা হলো:-

১. ব্লগিং এ আয়ের কোন সীমা নেই। চাকুরিতে বেতন পাবেন ১০ অথবা ২০ হাজার। কিন্তু আপনার মেধা, শ্রম ঢেলে খুব দ্রুত গড়ে তুলতে পারেন আপনার ব্লগিং ক্যারিয়ার। আপনার মাসিক আয় হতে পারে ১ হাজার ডলার, ২ হাজার ডলার, ৩ হাজার ডলার বা তারও বেশি। আপনার কাজই নির্ধারণ করবে আপনার আয়ের অংক।

২. আপনি ব্যবসা করবেন, প্রয়োজন হবে বিশাল পুঁজি। রয়েছে পদে পদে ঝুঁকি, আপনি সর্বশান্ত হতে পারেন। অন্যদিকে ব্লগিং এর জন্য প্রয়োজন মাত্র একটি ইন্টারনেট সংযুক্ত পিসি, ডোমেইন/হোস্টিং কেনার জন্য ২/৩ হাজার টাকা আর আপনার ব্লগিং পরিকল্পনা।

৩. পৃথিবীর যতগুলো স্বাধীন পেশা রয়েছে, তার মধ্যে ব্লগিং অন্যতম। কখনো কাজ করতে মনে চাচ্ছে না, ঘুমিয়ে পরলেন। কোথাও থেকে বেড়িয়ে আসলেন। কারও কাছে জবাবদিহি করতে হবে না।

৪. ব্লগিং একটি ফেলসিবল (Flexible) পেশা। যে কেও, যে কোন সময়, যে কোন স্থানে বসে ব্লগিং করতে পারে। একজন ছাত্র তার পড়াশোনার পাশাপাশি, একজন চাকুরিজীবি তার চাকুরির পাশাপাশি, একজন গৃহিণী তার কাজের পাশাপাশি ব্লগিং করে অর্থ উপার্জন করতে পারে।

আপনি কি ব্লগিং করতে পারবেন?

আপনি যদি বাংলা অথবা ইংরেজিতে ২/৩ লাইন লিখতে পারেন। তাহলে আপনিও ব্লগিং করতে পারবেন। অথবা, বিষয়বস্তুকে সুবিন্যস্তভাবে সাজাতে পারেন, তাহলে আপনিও ব্লগিং করতে পারবেন।

আপনাকে যদি বলা হয়, একটি স্বাস্থ্যবিষয়ক ব্লগ সাইট করার জন্য, আপনি কি এ সম্পর্কিত ভাল মানের একাধিক সাইটকে ফলো করে, উক্ত সাইটের তথ্যাদি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে, প্রয়োজনে বাজার হতে এ বিষয়ক বই সংগ্রহ করে নিজের মত কিছু লিখতে পারবেন না? আপনি অন্তত সাধারণ জ্ঞানের জন্য প্রশ্নোত্তর টাইপের ব্লগিং নিশ্চয়ই করতে পারবেন।

তাহলে সাধারন জ্ঞান বিষয়ক একটি সাইট করুন না! এ বিষয়ক সাইটগুলো ভিজিট করুন। তাদের তথ্যকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে আপনি লিখে পোস্ট করুন। আপনি তো তাদের তথ্য  সরাসরি কপি করতে যাচ্ছেন না! আসলে, প্রচেস্টা থাকলে আপনার ব্লগের উপকরণ ইন্টারনেট থেকেই সংগ্রহ করতে পারেন। আর এসব যদি পারেন, তবে আপনি অবশ্যই ব্লগিং করতে পারবেন।

টেকনিক্যাল জ্ঞান

ব্লগিং সাইট তৈরি, প্রতিনিয়ত আপডেট, রক্ষনাবেক্ষণের জন্য আপনাকে অব্শ্যই ওয়েবসাইট ডিজাইন ও ডেভলেপমেন্ট জানতে হবে। সাধারণ মানের একটি সাইট করতে Html, Css, Javascript (জাভাস্ক্রিপ্ট)শিখলেই হবে। কিন্তু, প্রফেশনাল মানের একটি সাইট তৈরী করতে, বিশেষত ডাইনামিক সাইট তৈরি করতে Php/mysql (পিএইচপি/মাইএসকিউএল), WordPress (ওয়ার্ডপ্রেস) ইত্যাদি শিখতে হবে। আর এ সম্পর্কিত জ্ঞানের জন্য ইন্টারনেটের বিভিন্ন টিউটোরিয়ালের সাহায্য নিতে পারেন।

ওয়েব সাইটের প্রচার

সাইট তৈরি হওয়ার পরে আপনাকে ভিজিটর বৃদ্ধির জন্য মনোযোগী হতে হবে। এজন্য এসইও (SEO) এর বিকল্প নেই। এজন্য এসইও এর প্রাথমিক বিষয়গুলো (যেমন: ব্যাকলিংক, ফোরাম পোস্টিং, বুকমার্ক, ফেসবুক ইত্যাদি পদ্ধতির প্রয়োগ করুন। দেখবেন ধীরে ধীরে আপনার সাইটে ভিজিটর বৃদ্ধি পাচ্ছে।

অতঃপর গুগল অ্যাডসেন্স এর জন্য আবেদন করুন। সাইট তথ্যসমৃদ্ধ হলে অবশ্যই গুগল অ্যাডসেন্স এ্যাপ্রুভ হবে। আপনার ব্লগ সাইট পরিচিতি হবে, সার্চ র‌্যাংক বাড়তে থাকবে, আর উপার্জনের বহুমূখী আয়ের উৎস হবে আপনার ব্লগ সাইট।

ব্লগিং, গুগল অ্যাডসেন্স, ইত্যাদি সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে আমাদের প্রকাশিত পোস্ট গুলো পড়ুন। আর আপনার সবচেয়ে বড় সাহায্যকারী হিসেবে গুগোল মামা ও ইন্টারনেট তো আছেই।

👉 অনুরূপ পোস্ট সমূহ 👇

লেখক সম্পর্কে: হাই, আমি আতিক, এই ব্লগের লেখক এবং প্রতিষ্ঠাতা। আমি একজন পার্ট টাইম ব্লগার, ইন্টারনেট মার্কেটার, এসইও এবং ওয়েব ডিজাইন এক্সপার্ট। বিস্তারিত দেখুন…

0 comments… add one

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।